পাহাড়ের নিচে লুকানো তেলের সমুদ্র! যুদ্ধের আবহে ভারতের এই ৩টি ‘গোপন গুহা’ই কি বাঁচাবে আমাদের?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ, হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কা—তবুও ভারত নিশ্চিন্ত! কেন জানেন? কারণ, ভারতের কাছে রয়েছে তেলের এমন এক ‘গোপন ভাণ্ডার’, যার নাগাল পাওয়া শত্রুপক্ষের ড্রোন বা মিসাইলের পক্ষেও অসম্ভব। পাহাড়ের গভীর খোদাই করা তিনটি বিশাল গুহায় ভারত মজুত করে রেখেছে লক্ষ লক্ষ টন অপরিশোধিত তেল।
কোথায় লুকিয়ে এই গোপন খনি? ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হলো ‘ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ লিমিটেড’-এর তৈরি তিনটি ভূগর্ভস্থ গুহা:
-
বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ): এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন তেলের গুহা।
-
ম্যাঙ্গালুরু (কর্নাটক): কর্নাটকের উপকূলে মাটির গভীরে তৈরি তেলের ভাণ্ডার।
-
পাদুর (তামিলনাড়ু): তামিলনাড়ুর এই গুহাটিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কতটা শক্তিশালী এই রিজার্ভ? এই তিনটি গুহা মিলিয়ে মোট ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন (প্রায় ৪০ মিলিয়ন ব্যারেল) অপরিশোধিত তেল মজুত রাখা যায়। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির মতে, এই মজুত তেল দিয়ে দেশের অন্তত ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এ ছাড়া শোধনাগারগুলোতে আরও ২৫ দিনের তেল মজুত রয়েছে। মাটির গভীরে থাকায় এখানে আগুন লাগার ঝুঁকি কম এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নামমাত্র।
কূটনীতির জয়: যুদ্ধের আবহে পাকিস্তান যেখানে দিশেহারা, ভারত তখন বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফল কূটনীতিতে ইরান ভারতীয় ট্যাঙ্কারগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে ভারত ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করছে, যার ৭০ শতাংশই হরমুজ প্রণালীর বাইরের রুট দিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড়সড় ধাক্কা দিতে ব্যর্থ।