“৫-১০ টাকা বাড়ল অটো ভাড়া”-ইরান যুদ্ধের আঁচ এবার অটোর মিটারে! হতাশ যাত্রীরা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন এবার সরাসরি লাগল আমজনতার পকেটে। ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকটে কার্যত স্তব্ধ হওয়ার জোগাড় শহর কলকাতা ও শহরতলির অটো পরিষেবা। সিএনজি (CNG) গ্যাসের তীব্র আকাল ও পেট্রোল-ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দামের দোহাই দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ—একাধিক রুটে ৫ থেকে ১০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে চালকদের বিরুদ্ধে।
যেখানে বাড়ছে ভাড়া: গড়িয়া, বারুইপুর, বারাসত, কসবা-সহ শহরতলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরকারি নির্দেশিকা ছাড়াই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। অটো চালকদের দাবি, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও গ্যাস মিলছে না, মিললেও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে পুরনো ভাড়ায় গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও উষ্মা: অটোর ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সব রুটে ভাড়া বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সিএনজি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে জানি। আমরা সরবরাহকারীদের ডেকেছি যাতে অটো দ্রুত গ্যাস পায়। রাজ্য সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে।”
তৃণমূল-বিজেপি-সিপিআইএম দ্বৈরথ: এই ইস্যু নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ির তোপ, “তৃণমূল অটোর থেকে কাটমানি নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে, তাই ভাড়া বাড়লেও কিছু বলতে পারে না।” অন্যদিকে, সিপিআইএম নেতা কলতান দাশগুপ্তের দাবি, “জিনিসপত্রের দাম ও অটোর ভাড়া বাড়া নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি দুই দলই দায়ী।” যদিও আইএনটিটিইউসি নেতা তাপস দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, সংগঠনকে না জানিয়ে যারা ভাড়া বাড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপসংহার: রাস্তায় দীর্ঘ লাইন আর পকেটে বাড়তি টান—সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। এখন দেখার, নবান্নের হস্তক্ষেপে অটোর ভাড়া ও গ্যাস সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হয়।