যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিল ইরান! খামেনেই হত্যার পর কি এবার নতি স্বীকার করল আমেরিকা-ইজ়রায়েল?

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার হতে না হতেই যুদ্ধের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত। অবশেষে যুদ্ধ থামানোর জন্য আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সামনে তিনটি কড়া শর্ত রাখল ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার পক্ষেই। তবে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে গেলে তাঁদের দেওয়া শর্তগুলি মানতেই হবে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের অতর্কিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পশ্চিম এশিয়া। হামলা-পাল্টা হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই আবহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্রুত যুদ্ধ শেষের বার্তা দিয়েছেন, ঠিক তখনই নিজের তাস খেললেন পেজেশকিয়ান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। ইরান তিনটি বিষয় দাবি করছে— প্রথমত, ইরানের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে; দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; এবং তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে আর কখনও এমন আগ্রাসন হবে না, তার সপক্ষে আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে।
যদিও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখনও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, আমেরিকান হামলায় পারস্য উপসাগরের কোনো বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা পাল্টাহামলা চালিয়ে সব অর্থনৈতিক কেন্দ্র ধ্বংস করে দেবে। তবে পেজেশকিয়ানের এই নতুন বার্তা ইতিবাচক বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ইজ়রায়েলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে ক্ষমতার পালাবদল বা গণ-অভ্যুত্থানের কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই। ফলে সামরিক শক্তির বদলে আলোচনার টেবিলে বসেই এই মহাসংকট মেটানোর পথ খুঁজছে সব পক্ষ।