বিশ্বজুড়ে হাহাকার! ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, ইরানি হামলায় উত্তাল সমুদ্র—ভারতে কি পেট্রোল ২০০ টাকা হবে?

বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যেন দাবানল লেগেছে! বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৮.২% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ইরান ও ইরাকের জলসীমায় ঘটা এক ভয়াবহ নাশকতামূলক হামলা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরাকি জলসীমায় বিস্ফোরক বোঝাই ইরানি নৌকা দুটি বড় তেল ট্যাঙ্কার—’সাফেসি বিষ্ণু’ এবং ‘জেফিরোস’-কে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই ঘটনার পরপরই চরম নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ইরাক তাদের সমস্ত তেল টার্মিনালের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কেন এই হামলা চালাল ইরান?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তেলের দাম কমাতে যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রতিবাদেই এই হামলা। IEA সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে যুদ্ধের কারণে আকাশছোঁয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা জরুরি মজুদ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। আমেরিকা, জাপান, ব্রিটেন ও জার্মানির মতো দেশগুলোও তাদের পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ইরান চায় না তেলের দাম কমুক। তারা চায় উচ্চমূল্যের চাপ বজায় রেখে আমেরিকা ও ইউরোপকে যুদ্ধের ইস্যুতে কোণঠাসা করতে। এই হামলার মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিল—”তোমরা বাজারে তেল ছাড়লে, আমরা ট্যাঙ্কার ধ্বংস করব।”
ভারতের ওপর প্রভাব ও শেয়ার বাজারে ধস:
ভারতের জন্য এই খবর অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ ভারত তার তেলের চাহিদার প্রায় ৮০-৮৫% মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যার মধ্যে ২০% আসে একমাত্র ইরাক থেকে। ইরাকের বন্দরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। এই আশঙ্কার মেঘ সরাসরি আছড়ে পড়েছে দালাল স্ট্রিটেও। আজ বাজার খুলতেই সেনসেক্স ৯০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়েছে, নিফটিতেও দেখা যাচ্ছে বিশাল পতন। ইরান ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও তারা আমেরিকা বা ইসরায়েলে যেতে দেবে না। যদি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলবে।