রান্নার গ্যাস নিয়ে হাহাকার! ব্লিনকিট-জেপ্টোতে সব ‘স্টক আউট’, কেন রাতারাতি উধাও ইন্ডাকশন স্টোভ?

রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG) সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশজুড়ে ত্রাহি ত্রাহি রব। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ এখন বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন স্টোভের দিকে ঝুঁকছে। যার ফলে ব্লিনকিট, জেপ্টো এবং সুইগি ইনস্টামার্টের মতো কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিতে দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলিতে ইন্ডাকশন স্টোভ এখন ‘স্টক আউট’। ১০ মিনিটে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দাবি করা এই সংস্থাগুলিও এখন বিপুল চাহিদা সামলাতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।
প্যানিক বায়িং-এর নেপথ্যে কোন কারণ?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটার পিছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে:
সরকার কর্তৃক হঠাৎ করে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া।
গৃহস্থালীর সিলিন্ডার রিফিলের ক্ষেত্রে ২৫ দিনের দীর্ঘ সময়সীমা বা গ্যাপ।
সবচেয়ে বড় কারণ হলো আন্তর্জাতিক অস্থিরতা। ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের প্রায় ৯০% এলপিজি আমদানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রির রেকর্ড
ফ্লিপকার্ট এবং অ্যামাজনের মতো জায়ান্ট প্ল্যাটফর্মগুলি গত ৪-৫ দিনে অভূতপূর্ব বিক্রির সাক্ষী থেকেছে। ফ্লিপকার্টের দাবি, গত কয়েক দিনে ইন্ডাকশন স্টোভের বিক্রি চার গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, অ্যামাজন ইন্ডিয়া জানিয়েছে তাদের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩০ গুণ! শুধু ইন্ডাকশন নয়, রাইস কুকার, ইলেকট্রিক প্রেসার কুকার এবং এয়ার ফ্রাইয়ারের চাহিদাও আকাশছোঁয়া। ক্রোমার সিইও শিবাশিস রায় জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ এখন একেক জন একাধিক ইউনিট ইন্ডাকশন কিনছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই রান্না না থমকে যায়। বর্তমানে বাজারে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকার সাশ্রয়ী মডেলগুলি প্রায় অমিল। ৩,০০০ টাকার উপরের প্রিমিয়াম মডেলগুলিও এখন হাতেগোনা।
বিপাকে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্প
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হসপিটালিটি সেক্টরে। বাণিজ্যিক ১৯ কেজি সিলিন্ডারের তীব্র আকালের কারণে মুম্বইয়ের প্রায় ২০% রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সপ্তাহের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৫০-৬০% ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছোট রেস্তোরাঁ ও ফুটপাথের খাবারের দোকানগুলিও এখন বাধ্য হয়ে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্ডাকশন কিনছে, যার ফলে গৃহস্থালীর জোগান আরও কমে যাচ্ছে। চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর হোটেল অ্যাসোসিয়েশনগুলি পরিস্থিতিকে ‘ভয়ঙ্কর’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ হাসপাতাল ও বাড়িগুলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষের রান্নাঘর বাঁচাতে এখন একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইলেকট্রিক উনুন।