বন্ধ হবে ‘দাদা বৌদি বিরিয়ানি’? গ্যাসের তীব্র সংকটে বাঙালির প্রিয় স্বাদে বড় ধাক্কা!

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবার ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। শনিবার থেকে কলকাতায় ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা। তবে শুধু দামবৃদ্ধিই নয়, জোগানের চরম ঘাটতি ঘুম কেড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে যাওয়ায় শহর কলকাতার ছোট-বড় সব খাবারের দোকানই এখন অস্তিত্ব সংকটে।
বিপাকে ব্যারাকপুরের ‘দাদা বৌদি বিরিয়ানি’
গ্যাস সংকটের প্রভাব কতটা মারাত্মক, তা স্পষ্ট হলো ব্যারাকপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘দাদা বৌদি বিরিয়ানি’র মালিকের কথায়। তিনি জানান, তাদের তিনটি কাউন্টার মিলিয়ে দিনে গড়ে ৩০টি এবং মাসে প্রায় ৯০০টি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। গ্যাস ডিলাররা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে জোগানে টান থাকায় সিলিন্ডার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মালিকের আশঙ্কা, “এখনও পর্যন্ত কাজ চললেও কাল-পরশু থেকে রেস্তোরাঁ চালানো দায় হয়ে পড়বে।”
জাতীয় স্তরে হাহাকার ও রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ
গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে মুম্বইয়ের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বেঙ্গালুরুর বহু রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কলকাতায় যাতে এমন পরিস্থিতি না হয়, তার জন্য বুধবার জরুরি বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে একটি নির্দিষ্ট এসওপি (SOP) তৈরি করা হবে এবং পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনোভাবেই গ্যাসের কালোবাজারি না হয়। সাপ্লাই চেইন বজায় রাখতে তিনি কেন্দ্রের কাছেও আর্জি জানিয়েছেন।
বুকিংয়ের নতুন নিয়ম
পরিস্থিতি সামাল দিতে সিলিন্ডার রিফিল বুকিংয়ের নিয়মে কড়াকড়ি করেছে কেন্দ্র। এখন থেকে একটি সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী বুকিংয়ের জন্য গ্রাহকদের কমপক্ষে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ২১ দিন। অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।