ধোনি কি সত্যিই শেষ করেছেন যুবরাজের কেরিয়ার? প্রাক্তন প্রধান নির্বাচকের এক মন্তব্যেই ফাঁস হলো আসল সত্যি!

২০০৭-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুবরাজের ছয় ছক্কার সময় নন-স্ট্রাইকার এন্ডে ছিলেন ধোনি। আবার ২০১১-র বিশ্বজয়ের সেই ঐতিহাসিক ছক্কার সময় ধোনির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন যুবরাজ। মাঠের সেই অভেদ্য কেমিস্ট্রি যে পর্দার আড়ালে এত বিষাক্ত হয়ে উঠবে, তা ভাবেনি কেউ। যুবরাজ সিংয়ের বাবা যোগরাজ সিং বছরের পর বছর ধরে দাবি করে আসছেন যে, তাঁর ছেলের কেরিয়ার ধ্বংস করার নেপথ্যে রয়েছেন এমএস ধোনি। তবে এবার সেই বিতর্কে জল ঢাললেন প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাতিল।

নির্বাচক প্রধানের সোজাসাপ্টা বয়ান
টানা চার বছর ভারতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন সন্দীপ পাতিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ধোনি কি কখনও যুবরাজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কোনো অনুরোধ করেছিলেন? পাতিল অনড় গলায় জানান, “আমি রেকর্ডে বলছি, ধোনি কোনোদিন এমন কিছু বলেননি। সিলেকশন মিটিং হোক বা ট্যুর—ধোনির নির্বাচকদের ওপর অগাধ আস্থা ছিল। তিনি কোনো বিষয়েই হস্তক্ষেপ করতেন না।” অর্থাৎ, কেরিয়ারের শেষ দিকে যুবরাজের বাদ পড়ার পেছনে ধোনির কোনো ‘চক্রান্ত’ ছিল না বলেই দাবি তাঁর।

যোগরাজ সিংয়ের আক্রমণ
সন্দীপ পাতিল ধোনিকে ক্লিনচিট দিলেও, সুর নরম করতে নারাজ যোগরাজ সিং। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমি ধোনিকে কোনোদিন ক্ষমা করব না। ও বড় ক্রিকেটার হতে পারে, কিন্তু আমার ছেলের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। যুবরাজ আরও ৪-৫ বছর অনায়াসেই খেলতে পারত।” তাঁর দাবি, আয়নার সামনে দাঁড়ালে ধোনি নিজের অপরাধ দেখতে পাবেন।

মাঠের বন্ধুত্ব আর মাঠের বাইরের এই বিতর্ক এখন ভারতীয় ক্রিকেটের এক অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে নির্বাচকদের বয়ান, অন্যদিকে একজন বাবার ক্ষোভ—আসল সত্যটা ঠিক কোথায়, তা নিয়ে আজও দ্বিধাবিভক্ত ক্রিকেট মহল।

Saheli Saha
  • Saheli Saha