গ্যাসে পড়েছে টান, আর্সালান-দাদা বৌদিতে কমছে বিরিয়ানি, চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন এবার এসে লাগল কলকাতার ভোজনরসিকদের পাতে! হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তিলোত্তমার ‘বিরিয়ানি’ ব্যবসায়। মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো কলকাতায় এখনও রেস্তোরাঁ বন্ধ না হলেও, বাণিজ্যিক গ্যাসের (Commercial LPG) হাহাকার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে নামী ব্র্যান্ডগুলোর সামনে।

সঙ্কটে আর্সালান, বিকল্প খুঁজছে কর্তৃপক্ষ: পার্কসার্কাসের বিখ্যাত আর্সালান বিরিয়ানির ১২টি ব্রাঞ্চ মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০টি সিলিন্ডার প্রয়োজন। কিন্তু বুধবার থেকেই সেখানে জোগানে টান পড়েছে। ম্যানেজার মোজাম্বিল হক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না মেলায় বাধ্য হয়ে তাঁরা কাঠকয়লার কথা ভাবছেন। তবে কলকাতায় কাঠকয়লা নিষিদ্ধ হওয়ায় শহরতলি থেকে রান্না করে শহরে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। সংকট না মিটলে মেনু থেকে অনেক পদ বাদ যেতে পারে, এমনকি দোকান বন্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কাঠের আগুনে ‘দাদা-বৌদি’র বিরিয়ানি? একই দুশ্চিন্তা ব্যারাকপুরের বিখ্যাত দাদা-বৌদি বিরিয়ানির অন্দরমহলেও। কর্ণধার রাজীব সাহা জানিয়েছেন, ডিস্ট্রিবিউটাররা হাত তুলে দিলে পুরনো আমলের মতো কাঠের আগুনেই বিরিয়ানি রান্না করতে হবে। আর জ্বালানির খরচ বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে বিরিয়ানির দামের ওপর। অর্থাৎ, এক প্লেট বিরিয়ানির জন্য এবার পকেটে আরও বেশি টান পড়তে পারে সাধারণ মানুষের।

মেনু ছোট করছে জমজম: পার্কসার্কাসের আর এক জনপ্রিয় ঠিকানা জমজম বিরিয়ানির অবস্থা একই রকম। প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় কম সিলিন্ডার পাওয়ায় রান্নার পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

উপসংহার: ইরান যুদ্ধের আঁচ যেভাবে কলকাতার বিরিয়ানি সাম্রাজ্যে ঢুকে পড়েছে, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মালিকরা। যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে বিরিয়ানির শহর কলকাতায় পছন্দের ডিশ পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে।