ভোটের মুখে বাঁকুড়ায় ধস! গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ ও গীতা দান, ১০০ কর্মী নিয়ে বিজেপিতে তৃণমূল বুথ সভাপতি!

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাঁকুড়ার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট। শাসক দল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কালপাথর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুশতোড়া গ্রামে বড়সড় ভাঙন ধরাল বিজেপি। বুধবার বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানার উপস্থিতিতে তৃণমূলের বুথ সভাপতি নন্দলাল শীটসহ প্রায় শতাধিক কর্মী-সমর্থক পদ্ম শিবিরে যোগ দেন। তবে এই যোগদানের প্রক্রিয়ায় ‘শুদ্ধিকরণ’ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এদিন দলবদলুদের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়ার আগে তাঁদের গায়ে উত্তরপ্রদেশের মহাকুম্ভ থেকে আনা গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেন বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানা। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় পবিত্র গীতা। বিধায়কের দাবি, “গঙ্গাজল ছিটিয়ে তাঁদের শুদ্ধিকরণ করে পবিত্র পরিবারে সামিল করা হয়েছে।” দলত্যাগী নেতা নন্দলাল শীটের অভিযোগ, এলাকায় সেচের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি পুকুর খননের দাবি জানানো হলেও তৃণমূল কর্ণপাত করেনি, তাই উন্নয়নের তাগিদেই এই সিদ্ধান্ত।
তৃণমূল অবশ্য এই ঘটনাকে আমল দিতে নারাজ। তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন ডাঙরের দাবি, “এরা কেউই তৃণমূলের কর্মী নয়, পুরোটাই বিজেপির সাজানো নাটক।” রাজনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকায় দুই দলের লড়াই বরাবরই সমানে-সমানে। ২০১৯ সালে এখানে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, ২০২১ এবং ২০২৪ সালে তৃণমূল লিড বজায় রেখেছিল। নির্বাচনের মুখে এই দলবদল ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।