রাষ্ট্রপতিকে চরম অসম্মান! মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে কড়া চিঠি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর, চাইলেন নিঃশর্ত ক্ষমা!

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পশ্চিমবঙ্গে সফরের সময় অসম্মান করার অভিযোগে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। বুধবার পাঠানো এই চিঠিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার অর্থ সমগ্র দেশ এবং কোটি কোটি আদিবাসী সমাজকে অপমান করা। এই নজিরবিহীন আচরণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রপতি এবং দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের অনুমতি না দেওয়া এবং শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করা কেবল একটি যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে না। এটি সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং রাষ্ট্রপতির পদের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাবকে প্রতিফলিত করে। মাঝির কথায়, “আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে একজন নারী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কেবল সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নয়, দেশের দলিত এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের অনুভূতিতেও গভীর আঘাত করেছে।”

মোহন মাঝি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সংস্কৃতি ও সভ্যতার রাজ্য হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এই ঘটনায় রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে তিনিও ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া চিঠির উত্তরে নবান্নের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে।