বিটেক পড়ুয়া থেকে শয্যাশায়ী কঙ্কাল! বডি বিল্ডার হরিশের লাইফ সাপোর্ট খোলার অনুমতি দিল আদালত, কেন এই কঠিন সিদ্ধান্ত?

কোনও পিতাই তাঁর সন্তানের জন্য এমনটা চান না, কিন্তু পরিস্থিতি আজ আমাকে এই কঠিন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।” সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ও মানবিক সিদ্ধান্তের পর গলা বুজে এল অশোক রানার। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে যে ছেলেটি বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে ছিল, সেই হরিশ রানার ‘প্যাসিভ ইউথানাশিয়া’ বা নিষ্কৃতি মৃত্যুতে সবুজ সংকেত দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
২০১৩ সাল পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল। পঞ্জাবের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটেক পড়ুয়া হরিশ ছিলেন বডি বিল্ডিংয়ের নেশায় বুঁদ এক টগবগে তরুণ। কিন্তু অগস্টের এক অভিশপ্ত দিনে পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মস্তিস্কে গুরুতর আঘাত লাগে। সেই থেকেই হরিশ ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ। অর্থাৎ, প্রাণ আছে কিন্তু চেতনা নেই। ছেলেকে সুস্থ করতে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন বাবা অশোক ও মা নির্মলা। দিল্লির বাড়ি বিক্রি করে আজ তাঁরা গাজিয়াবাদের এক চিলতে ফ্ল্যাটে আশ্রিত। বৃদ্ধ অশোক রানা পেটের তাগিদে এবং ছেলের ওষুধের খরচ জোগাতে সকালে স্যান্ডউইচ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ দিল্লির এইমস (AIIMS) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, হরিশকে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে ভর্তি করে মর্যাদার সঙ্গে তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই দম্পতি এখন বৃদ্ধ। তাঁরা মারা গেলে এই অসহায় ছেলেটির দেখভাল কে করবে? এই চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক দিক বিবেচনা করেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অশোক রানার কাতর উক্তি, “দেশের আর কোনও বাবা-মায়ের যেন এমন দিন দেখতে না হয়।” ১৩ বছরের দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান ঘটতে চললেও, এক বাবার হাহাকার আজ ভারী করে তুলেছে গাজিয়াবাদের বাতাস।