নজিরবিহীন বিদ্রোহ! ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রস্তুতি, লোকসভায় জমা পড়ছে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব

ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব এবং নজিরবিহীন সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এই প্রথম দেশের কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (CEC) বিরুদ্ধে সংসদীয় ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলল বিরোধী শিবির। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিরোধী জোট, যা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে।

সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের প্রস্তাব আনতে গেলে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের সমর্থিত স্বাক্ষর প্রয়োজন। কিন্তু সূত্রের খবর, বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে গিয়েছে। লোকসভায় ১২০ জন এবং রাজ্যসভায় ৬০ জন— সব মিলিয়ে ১৮০ জন সাংসদ এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই করেছেন, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। আগামী বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যেই সংসদের দুই কক্ষে এই ঐতিহাসিক নোটিস জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই বিতর্কের মূলে রয়েছে ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিতর্কিত নিয়ম এবং কমিশনের তথাকথিত ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণ। বিরোধীদের অভিযোগ, বর্তমান কমিশন কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিজেপি-বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং পুলিশকর্তাদের রদবদল নিয়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। বিরোধীদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।

যদিও ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করাতে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা বর্তমান রাজনৈতিক পাটিগণিতে বিরোধীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তবে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা জাতীয় স্তরে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রস্তাব পাশ হোক বা না হোক, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এই লড়াই সংসদীয় ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী দাগ রেখে যাবে।