যুদ্ধের আঁচে এবার হাসপাতালের হেঁশেল! আসানসোলে রোগীদের খাবারে টান পড়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পৌঁছাল আসানসোল জেলা হাসপাতালের হেঁশেলে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তার জেরে বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকা সংস্থাগুলি। রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং জোগানে টান পড়ার কারণে রোগীদের তিনবেলার খাবার জোগান দেওয়া এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসানসোল জেলা হাসপাতালে দৈনিক গড়ে প্রায় ৭০০ রোগীর খাবার রান্না করা হয়। এর জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি ২১ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার প্রয়োজন। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সিলিন্ডার পিছু বাড়তি ১১৪ টাকা গুণতে হচ্ছে ঠিকাদারদের। তার ওপর নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাসের অমিল। গ্যাস এজেন্সিগুলি জানাচ্ছে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ কমেছে এবং আগামী দিনে দাম আরও বাড়তে পারে। ঠিকা সংস্থার দাবি, সরকার থেকে রোগী পিছু তিনবেলা খাবারের জন্য মাত্র ৫৬ টাকা বরাদ্দ করা হয়। বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে এই সামান্য টাকায় গুণমান বজায় রেখে খাবার দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। ক্যানটিন কর্মীদের দাবি, গ্যাসের এই অভাব এবং মূল্যবৃদ্ধি বজায় থাকলে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে, অন্যথায় রোগীদের খাবারের পাতে টান পড়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। যুদ্ধের তাপ যে কেবল সীমান্তে নয়, সাধারণ মানুষের থালাতেও পৌঁছে যাচ্ছে, আসানসোলের এই চিত্র তারই প্রমাণ।