বিদায়বেলায় রাজভবনে কান্নার রোল! মমতার ‘মহানুভবতা’র কথা বলতে গিয়ে চোখে জল আনন্দ বোসের

বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজভবন। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আচমকা ইস্তফা দিয়েছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। বুধবার বিদায়বেলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ‘মহানুভবতা’র প্রশংসা করতে গিয়ে প্রকাশ্যেই কেঁদে ফেললেন বিদায়ী রাজ্যপাল। তাঁর চোখের কোণে চিকচিক করে ওঠা জল আর ধরা গলায় ধরা পড়ল সাড়ে তিন বছরের এক অম্লমধুর সম্পর্কের ইতিবৃত্ত।

এদিন আনন্দ বোস বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি মহান। আমি এখানকার মানুষের মিষ্টতা উপহার হিসেবে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।” তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন নিজের ইস্তফা প্রসঙ্গে ইঙ্গিতবহ মন্তব্য করেন তিনি। বোসের কথায়, “জীবনের ৭৫ বছর কাটিয়ে আমি জানি কোথায় থামতে হয়। সবকিছুরই একটা শেষ থাকে।” তবে তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে কোনো ‘রাজনৈতিক অভিসন্ধি’ বা ‘ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সুরে সুর মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওঁর প্রতি অবিচার করা হয়েছে, এটা অন্যায়।”

উল্লেখ্য, আনন্দ বোসের কার্যকালের শুরুতে রাজভবনে হাতেখড়ি অনুষ্ঠানে মমতা-বোস সুসম্পর্ক নজর কেড়েছিল গোটা দেশের। যদিও পরবর্তীতে উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে নবান্ন-রাজভবন সংঘাত চরম আকার নেয়। সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলেও, বিদায়বেলায় সেই তিক্ততা ভুলে সৌজন্যের নজির গড়লেন দুজনেই। বুধবার বিকালেই বঙ্গে পা রাখছেন নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি। কিন্তু তার আগে আনন্দ বোসের এই অশ্রুসজল বিদায় বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।