সব দেশের তেল সমান নয়! কেন ভেনেজুয়েলার ‘ঘন’ তেলের দিকেই নজর আমেরিকার? জানুন আসল রহস্য

বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো খনিজ তেল বা অপরিশোধিত তেল (Crude Oil)। কিন্তু আপনি কি জানেন, সব দেশের তেলের মান বা গুণমান এক নয়? কোনো দেশের তেল জলের মতো পাতলা, আবার কোথাও তা আলকাতরার মতো ঘন। এই পার্থক্য নির্ধারিত হয় ‘API গ্র্যাভিটি’-র মাধ্যমে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (API) দ্বারা নির্ধারিত এই পরিমাপই বলে দেয় তেল কতটা ভারী বা হালকা।
আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের এপিআই গ্র্যাভিটি ৩৯-৪১°। এটি বেশ হালকা এবং পরিশোধনের জন্য অত্যন্ত সহজ। এই তেল থেকে পেট্রোল এবং জেট ফুয়েল বেশি পরিমাণে উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে, ইরানের তেল মাঝারি মানের, যার এপিআই গ্র্যাভিটি ৩৩-৩৬°। বিশ্বের অধিকাংশ শোধনাগার এই ধরণের তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। রাশিয়ার তেলের মান ৩০-৩২° এপিআই। তবে রাশিয়ার তেলে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি পরিশোধনে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ও পরিশ্রম প্রয়োজন হয়।
সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো ভেনেজুয়েলার তেল। এর এপিআই গ্র্যাভিটি মাত্র ১৫-১৬°। এটি অত্যন্ত ভারী, ঘন এবং অনেকটা আলকাতরার মতো। অবাক করা বিষয় হলো, বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকার নজর থাকে ভেনেজুয়েলার এই ঘন তেলের দিকে। এর কারণ হলো আমেরিকার অধিকাংশ তেল শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলো ভারী তেল পরিশোধনের উপযোগী করে তৈরি। এই ভারী তেল থেকে প্রচুর পরিমাণে বিটুমিন বা ভারী জ্বালানি পাওয়া যায় যা রাস্তা তৈরি ও শিল্পের জন্য অপরিহার্য। তাই বিশ্ব রাজনীতিতে তেলের গুণমান সরাসরি প্রভাব ফেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে।