কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিলে বড় বিভ্রাট! পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এবার ধর্মতলায়, খাবারের মেনু দেখে থ পড়ুয়ারা

সুদূর পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার এসে পৌঁছাল কলকাতার স্কুলের রান্নাঘরে। দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের তীব্র সংকটের জেরে খাস কলকাতায় থমকে গেল মিড-ডে মিলের স্বাভাবিক ছন্দ। ধর্মতলার প্রাণকেন্দ্র এস এন ব্যানার্জি রোডের রানি রাসমনি হাই স্কুলে বুধবার পড়ুয়াদের পাতে মিলল না ডাল-ভাত-সবজি; তার বদলে জোটে কেবল একটি করে সেদ্ধ ডিম। গ্যাসের অভাবে রান্না না হওয়ায় মেনুতে এই কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
শহরের অধিকাংশ স্কুলে খাবার আসে ‘কমিউনিটি কিচেন’ থেকে। সেখান থেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রান্নার গ্যাসের জোগান না থাকায় পর্যাপ্ত খাবার তৈরি করা সম্ভব হয়নি। রানি রাসমনি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্ষেপের সুরে বলেন, “খুবই চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু গ্যাস নেই। তাই পড়ুয়ারা যাতে খালি পেটে না থাকে, তার জন্য কোনওমতে ডিম সেদ্ধ করে পাঠানো হয়েছে।” আগামীকাল গ্যাস না মিললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু ধর্মতলা নয়, উত্তর কলকাতার ৭০টি এবং দক্ষিণ কলকাতার প্রায় ১০০টি স্কুলেও মিড-ডে মিল নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কোথাও কাঠের উনুনে রান্নার চেষ্টা হচ্ছে, আবার কোথাও হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্কুলগুলি থেকে সরকারকে চিঠি দিয়ে ভবিষ্যতের দিশা চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত যেখানে ছাত্রছাত্রীরা ভাত-ডাল-আলু পোস্ত খেয়েছে, বুধবার থেকে সেখানে গ্যাসের আকাল কচিকাঁচাদের পুষ্টির অধিকারে বড়সড় কোপ বসাল।