ইন্ডাকশন না কি কাঠকয়লা? গ্যাসের হাহাকারে দিশেহারা উত্তরবঙ্গ, বুকিং পেলেও সিলিন্ডার উধাও!

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে রান্নার গ্যাসের সংকট এখন চরমে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে শিলিগুড়ির হেঁশেলে। সিলিন্ডারের জোগান কমায় এবং দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, অনেক নামী দোকানেই খাবারের লম্বা চওড়া মেনু কার্ড এখন ছোট হয়ে দাঁড়িয়েছে কেবল ডাল-ভাতে।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘২৫ দিনের ব্যবধানের’ নতুন নিয়ম তাঁদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। হোটেল মালিক বাপ্পা সরকারের কথায়, “গ্যাস নেই, তাই বেশি রান্নার ঝুঁকি নিতে পারছি না। অনেক হোটেলে মাছ-মাংস বন্ধ করে সাধারণ সবজি দেওয়া হচ্ছে।” এমনকি রাস্তার ধারের মোমো বা চাউমিনের দোকানদারদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর অফিসগুলোর সামনে এখন সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন, অথচ বুকিং থাকলেও সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ।

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পেও। পর্যটকরা এসে ঠিকঠাক খাবার পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে পুরনো দিনের মতো কাঠকয়লার উনুনে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, ডিস্ট্রিবিউটররা গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিলেও, কালোবাজারির আশঙ্কায় নবান্ন ইতিমধ্যেই জরুরি বৈঠক ডেকেছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিলিগুড়ির খাদ্য ও পর্যটন ব্যবসা বড়সড় ধসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।