মোদিকে নিয়ে মিম বানালেই মুশকিল? ঝড়ের গতিতে ব্লক হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, আপনিও কি তালিকায়?

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা তাঁর নীতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মিম, কার্টুন বা সমালোচনা পোস্ট করার আগে দু’বার ভাবুন। সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ‘৬৯এ’ ধারা ব্যবহার করে নজিরবিহীনভাবে বিপুল সংখ্যক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী—সকলেরই অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহে এই ‘ডিজিটাল সেন্সরশিপ’-এর মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

খোদ মেটা (Meta)-র প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছ’মাসেই সরকারি নির্দেশে কন্টেন্ট মুছে ফেলার হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিখ্যাত কার্টুনিস্ট সতীশ আচার্যের ভারত-ইরান সম্পর্ক বিষয়ক কার্টুন থেকে শুরু করে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বা সাংবাদিক সুশান্ত সিংয়ের পোস্ট—বাদ যাচ্ছে না কিছুই। এমনকি কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রিনাতের তৈরি এআই (AI) ব্যঙ্গচিত্রও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের নোটিশ দিয়ে জানাচ্ছে যে, ভারত সরকারের নির্দেশে তাঁদের পোস্ট ব্লক করা হয়েছে, কিন্তু সঠিক কী কারণে এই পদক্ষেপ, তা রাখা হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক ধরনের ‘অদৃশ্য সেন্সরশিপ’। আইটি আইনের ২০০৯ সালের রুল ১৬ অনুযায়ী, এই ধরনের ব্লকিং নির্দেশ গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। ফলে ব্যবহারকারীরা আইনি লড়াইয়ের সুযোগও পাচ্ছেন না। বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনা বা প্রধানমন্ত্রীর পুরনো টুইট শেয়ার করলেও কোপ পড়ছে অ্যাকাউন্টে। একদিকে যেমন বাক-স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিও আইনি গেরোয় পড়ার ভয়ে দ্রুত সরকারি নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হচ্ছে। গণতান্ত্রিক দেশে সুস্থ সমালোচনা ও ব্যঙ্গচিত্রের স্থান কোথায়, তা নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।