গঙ্গাসাগরে শ্যুটআউট! রক্তাত্ব বিজেপি নেতা, ২০২৬-এর প্রার্থী হওয়ার ‘পুরস্কার’ কি জোড়া গুলি?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হচ্ছে বাংলার মাটি। এবার খাস দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে বিজেপি নেতাকে লক্ষ্য করে সাত সকালে চলল গুলি। বুধবার সকালে শ্রীধাম মোড় ও গঙ্গাসাগর বাস টার্মিনাসের মাঝামাঝি এলাকায় ৬৬ বছর বয়সী বিজেপি নেতা ত্রিলোকেশ ঢালীকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি চালায় বাইক-আরোহী দুষ্কৃতীরা। পেটে ও বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতা স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে ত্রিলোকেশবাবু বাইক নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। শ্রীধাম মোড়ের কাছে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল আততায়ীরা। তিনি কাছে আসতেই খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে কাকদ্বীপ হয়ে কলকাতায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: এই ঘটনার পরই রূদ্রনগর বিডিও অফিসের সামনে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। জখম নেতার ছেলে ত্রিদীপ ঢালীর বিস্ফোরক অভিযোগ, “বাবা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলেই তৃণমূলের এই খুনের চক্রান্ত।” তাঁর দাবি, সাগরে আগে দুষ্কৃতীদের এমন দাপট ছিল না, যা এখন শাসকের আশ্রয়ে বাড়ছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী কণ্ঠরোধ করতেই এই বর্বরোচিত হামলা।
পুলিশি পদক্ষেপ: গঙ্গাসাগর উপকূল থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাগরের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।