তুফানগঞ্জে বোমাতঙ্ক! সুতলির বাণ্ডিল ভেবে বোমা হাতে তুলে নিলেন মহিলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল প্রাণ

কোচবিহারের তুফানগঞ্জে সাত সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বুধবার সকালে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ির উঠোন থেকে একজোড়া তাজা বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নাটাবাড়ি দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেলাপেটা এলাকায়। ঘটনার জেরে রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করা হয়েছে, যদিও গেরুয়া শিবির সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। ভেলাপেটা এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূল সমর্থক বিশ্বনাথ দাসের স্ত্রী কল্পনা দাস প্রতিদিনের মতোই বাড়ির উঠোন পরিষ্কার করছিলেন। ঝাড়ু দেওয়ার সময় তিনি দুটি সুতলির বলের মতো বস্তু দেখতে পান। প্রথমে সেগুলিকে সাধারণ সুতলির বাণ্ডিল ভেবে হাতে তুলে নিতে যান তিনি। কিন্তু হাতে নিতেই অস্বাভাবিক ভার অনুভব করে সন্দেহ হয় তাঁর। এরপর ভালো করে লক্ষ্য করতেই বুঝতে পারেন সেগুলি আসলে তাজা বোমা। ভয়ে চিৎকার করে তিনি বাড়িতে ঢুকে যান এবং প্রতিবেশীদের খবর দেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা এসে বোমা দুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে যান। কল্পনা দাস বলেন, “আমি ভাবলাম সুতলির বাণ্ডিল, তাই হাতে তুলেছিলাম। কিন্তু ওজন দেখে চমকে যাই। আমাদের বাড়িতে বাচ্চারা আছে, তারা খেললে বড় কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারত।” এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুফানগঞ্জের এসডিপিও কান্নেধারা মনোজ কুমার।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি নিকুঞ্জ দাসের অভিযোগ, বুধবার যুব তৃণমূলের একটি বাইক র‍্যালি ছিল। সেই কর্মসূচির আগে এলাকায় ভীতি প্রদর্শন করতেই বিজেপি এই কাজ করেছে। পাল্টা কোচবিহার জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি উজ্জ্বলকান্তি বসাক বলেন, “তৃণমূল জনভিত্তি হারিয়েছে, তাই সহানুভূতি পেতে নিজেরাই বোমা রেখে বিজেপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে।” আপাতত এলাকা থমথমে রয়েছে, মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী।