তেল সংকটে কাঁপছে বিশ্ব! ভারতের মাস্টারস্ট্রোক, ২৭ নয় এখন ৪০ দেশ থেকে আসছে জ্বালানি; দাম কি বাড়বে?

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ বর্তমানে যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। ইজরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ। এই রণংদেহি পরিস্থিতির আঁচ লেগেছে বিশ্ব বাজারেও, যার ফলে অনেক দেশেই তেলের হাহাকার শুরু হয়েছে। তবে ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এক বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে সংকট থাকলেও ভারতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র বিকল্প এবং অত্যন্ত কৌশলী পথে হাঁটছে।

৪০টি দেশ থেকে আসছে রসদ: সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত আগে মাত্র ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে জোগান নিশ্চিত করতে সেই তালিকায় আরও ১৩টি দেশকে যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকো, আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলা-সহ মোট ৪০টি দেশ থেকে ঘুরপথে জ্বালানি তেল ও এলপিজি আনা হচ্ছে। ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন এই বিকল্প এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে দেশে পৌঁছাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালীর সংকট ও ভারতের প্রস্তুতি: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল থমকে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের টান পড়েছে। কিন্তু ভারত সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সাথে নতুন সরবরাহকারী দেশ খুঁজে বের করেছে। পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশে সংকট তৈরি হলেও ভারতে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে। আমরা সরবরাহ মসৃণ রাখতে সবরকম পদক্ষেপ করছি।” ভারতের এই বহুমুখী আমদানির কৌশল (Diversification) পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের জোগানকে সুরক্ষিত রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ যুদ্ধের আবহেও দেশের অর্থনীতিকে বড়সড় ধাক্কার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।