শুধু কি ইট-পাথর? ১.৪ বিলিয়ন ডলারের বুর্জ খলিফা প্রতি বছর কত কোটি টাকা আয় করে জানেন?

মরুভূমির বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ৮২৮ মিটার লম্বা এক স্থাপত্য—বুর্জ খলিফা। ২০১০ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই এটি শুধু দুবাই নয়, বরং গোটা বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু কেন মরুশহর দুবাই এমন এক বিশাল ইমারত বানানোর ঝুঁকি নিয়েছিল? এর পেছনে লুকিয়ে ছিল এক সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক মাস্টারপ্ল্যান।
কেন তৈরি হয়েছিল এই ইমারত? একটা সময় ছিল যখন দুবাইয়ের অর্থনীতি মূলত তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দুবাই সরকার বুঝতে পেরেছিল, তেলের ভাণ্ডার চিরস্থায়ী নয়। তাই অর্থনীতিকে পর্যটন, রিয়েল এস্টেট এবং বাণিজ্যের দিকে ঘুরিয়ে দিতেই তৈরি করা হয় ‘ডাউনটাউন দুবাই’। এই প্রকল্পের মধ্যমণি হিসেবে বুর্জ খলিফাকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যাতে সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের নজর কাড়া যায়। আজ তেলের বদলে দুবাইয়ের আয়ের বড় অংশ আসে এই পর্যটন থেকেই।
ভেতরে কী আছে? এটি একটি ‘ভার্টিক্যাল সিটি’ বুর্জ খলিফাকে বলা হয় একটি ‘উল্লম্ব শহর’। অর্থাৎ, একটি শহরের প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই রয়েছে এই এক ইমারতের ভেতর।
-
আরমানি হোটেল: ১ থেকে ৮ তলা পর্যন্ত বিস্তৃত এই অতি-বিলাসবহুল হোটেল।
-
আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট: ৯০০-এর বেশি লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এখানে, যার ৭৬ শতাংশেরই দাম ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
-
বিশ্বের সর্বোচ্চ রেস্তোরাঁ: ১২২তম তলায় অবস্থিত ‘At.mosphere’, যেখানে বসে মেঘের রাজ্যে খাওয়া-দাওয়া করা যায়।
-
অবজার্ভেশন ডেক: ১২৪, ১২৫ এবং ১৪৮ তলা থেকে গোটা দুবাই শহরকে এক পলকে দেখা যায়।
নির্মাণের কিছু রোমহর্ষক তথ্য: ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই নির্মাণকাজে ২৬,০০০টি গ্লাস প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি প্যানেলের ওজন প্রায় ৩৬২ কেজি! ইমারতটিতে প্রতিদিন প্রায় ৯.৪৬ লক্ষ লিটার জলের প্রয়োজন হয় এবং যাতায়াতের জন্য রয়েছে ৫৭টি দ্রুতগামী লিফট। ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি আজ দুবাইয়ের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। শুধুমাত্র প্রবেশ টিকিট বিক্রি করেই বছরে প্রায় ৬২১ মিলিয়ন ডলার আয় হয় এখান থেকে। বুর্জ খলিফা আজ শুধু একটি ইমারত নয়, এটি মানুষের অসাধ্য সাধনের এক জীবন্ত নিদর্শন।