ফুরিয়ে যাবে সিলিন্ডার? যুদ্ধ আবহে রান্নার গ্যাসের হাহাকার, সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি টিপস

বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও যুদ্ধের পরিস্থিতির জেরে প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। এই অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, অনেক নামী হোটেল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই সংকটের মোকাবিলায় ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডার রিফিলের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ। তবে আতঙ্কিত না হয়ে রান্নাঘরের কিছু ছোটখাটো অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে এই সংকট কিছুটা লাঘব করা সম্ভব। জেনে নিন কীভাবে সাশ্রয় করবেন মহামূল্যবান রান্নার গ্যাস।

গ্যাস সাশ্রয়ের কার্যকরী উপায়:

মাঝারি আঁচে রান্না: অনেকেই দ্রুত রান্নার আশায় গ্যাসের ফ্লেম হাই করে দেন। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ যেমন নষ্ট হয়, তেমনই প্রচুর পরিমাণে গ্যাস অপচয় হয়। মাঝারি আঁচে রান্না করলে সিলিন্ডার অনেকদিন বেশি চলে।

প্রেসার কুকারের জাদুকরী ব্যবহার: ডাল, ভাত বা সবজি রান্নার ক্ষেত্রে প্রেসার কুকারের বিকল্প নেই। এতে সময় এবং গ্যাস—উভয়ই বাঁচে।

আগে প্রস্তুতি, তারপর উনুন: অনেকে গ্যাস জ্বালিয়ে তারপর আনাজ কাটতে বসেন। এতে অনেকটা গ্যাস অকারণে পুড়ে যায়। তাই রান্না শুরুর আগেই সব মশলা ও সবজি হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন।

ভেজানো ডালে সাশ্রয়: যে সব সবজি বা ডাল সেদ্ধ হতে সময় নেয়, সেগুলি রান্নার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে রান্না দ্রুত হবে এবং গ্যাসের খরচ কমবে।

ইন্ডাকশন স্টোভের ব্যবহার: চায়ের জল গরম করা বা হালকা রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন স্টোভ ব্যবহার করা বর্তমান সময়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে এলপিজি সিলিন্ডারের আয়ু বাড়বে।

ফ্রিজের খাবার সরাসরি উনুনে নয়: ফ্রিজ থেকে বের করা ঠান্ডা সবজি বা দুধ সরাসরি ওভেনে বসাবেন না। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পর রান্না শুরু করলে গ্যাস কম খরচ হয়।

একই পাত্রে ফোড়ন বা টেম্পারিং: আলাদা করে ফোড়ন দেওয়ার বদলে একই পাত্রে রান্না সারুন। দুবার গ্যাস জ্বালানোর অভ্যেস ত্যাগ করলে সাশ্রয় হবে নিশ্চিত।

ইলেকট্রিক কেটলি: জল গরমের জন্য গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার করুন। এটি দ্রুত কাজ করে এবং আপনার পকেটের খরচ কমায়।