বাংলার মুকুটে নয়া পালক! ৪৪৭৪ কোটির রেল প্রকল্পে শান্তিনিকেতন-তারাপীঠের ভোলবদল

পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি রেল মন্ত্রকের দুটি মেগা মাল্টিট্র্যাকিং প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্প দুটির জন্য মোট ৪,৪৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আগামী ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কোন কোন জেলায় মিলবে সুবিধা?
নতুন এই প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা সরাসরি উপকৃত হবে। অনুমোদিত ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইন নেটওয়ার্ক প্রায় ১৪৭ লক্ষ জনসংখ্যা বিশিষ্ট ৫,৬৫২টি গ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। প্রকল্পের আওতায় মূলত দুটি রুটকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে:
সাঁইথিয়া – পাকুর চতুর্থ লাইন
সাঁতরাগাছি – খড়্গপুর চতুর্থ লাইন
পর্যটনে নতুন দিগন্ত:
এই রেল সংযোগের ফলে বোলপুর-শান্তিনিকেতন, নন্দীকেশ্বরী মন্দির (শক্তিপীঠ), তারাপীঠ (শক্তিপীঠ), পটচিত্র গ্রাম এবং ভীমবন্ধ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছানো আরও সহজ হবে। এর ফলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
মালবাহী পরিবহনে গতি ও পরিবেশ রক্ষা:
রেলওয়ের এই সম্প্রসারণের ফলে কয়লা, সিমেন্ট, লোহা ও ইস্পাতের মতো পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হবে। বছরে অতিরিক্ত ৩১ মিলিয়ন টন মালবাহী পরিবহনের ক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে লজিস্টিক খরচ যেমন কমবে, তেমনই প্রায় ৬ কোটি লিটার জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে এবং ২৮ কোটি কেজি কার্বন নির্গমন হ্রাস পাবে, যা প্রায় ১ কোটি গাছ লাগানোর সমান।
প্রধানমন্ত্রী-গতি শক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রকল্প ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এক বিশাল পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।