উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল-বিপ্লব! শ্রীলঙ্কার চেয়েও বড় নেটওয়ার্ক গড়লেন মোদি, বদলে যাচ্ছে অসমের ভাগ্য

কঠিন ভৌগোলিক পরিস্থিতি আর দশকের পর দশক ধরে চলা ধীরগতির রেল যোগাযোগ এখন অতীত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের রেলওয়ে মানচিত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। যে অঞ্চল একসময় অবহেলিত ছিল, আজ সেখানে আধুনিক যোগাযোগ, সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেল বাজেট:
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯-১৪ সময়কালে এই অঞ্চলের জন্য বার্ষিক রেল বাজেট ছিল গড়ে মাত্র ২,১২২ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ বর্ষে সেই বরাদ্দ প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১১,৪৮৬ কোটি টাকায়। বর্তমানে ৭২,৪৬৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন রেল প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে ১,৯০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে, যা আয়তনে শ্রীলঙ্কার গোটা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের চেয়েও বড়।
স্টেশন আধুনিকীকরণ ও সুরক্ষা:
‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের অধীনে অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৬০টি রেলওয়ে স্টেশনকে বিশ্বমানের করে তোলা হচ্ছে। ২,১০১ কোটি টাকা বিনিয়োগে আধুনিক ডিজিটাল সুবিধা এবং উন্নত নকশায় সেজে উঠছে স্টেশনগুলি। ইতিমধ্যে হয়বরগাঁও স্টেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, সুরক্ষার জন্য ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ‘কবচ’ (Kavach) এই অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১,১৯৭ রুট কিলোমিটার পথে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার: নতুন প্রকল্প ও ট্রেন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শীঘ্রই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন।
ডাবলিং প্রজেক্ট: ১৯৪ কিমি দীর্ঘ ফরকাটিং-তিনসুকিয়া ডাবলিং প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, যা আপার অসমের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে গতি আনবে।
বৈদ্যুতিকরণ: রঙিয়া-মুরকংসেলেক (৫৫৮ কিমি) এবং চাপরমুখ-ডিব্রুগড় (৫৭১ কিমি)-সহ মোট ১,৪৪৪ কিমি বৈদ্যুতিকৃত রেললাইন জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে।
তিনটি নতুন ট্রেন: কামাখ্যা-চরলাপল্লি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি-নিউ জলপাইগুড়ী এক্সপ্রেস এবং নারেঙ্গি-আগরতলা এক্সপ্রেস—এই তিনটি নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু হতে চলেছে।
এই পরিবর্তন কেবল রেললাইনের বিস্তার নয়, বরং এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য এবং সামাজিক সংহতির এক নতুন যুগের সূচনা। “বিকশিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল – বিকশিত ভারত” গড়ার লক্ষ্যে ভারতীয় রেল এখন এক শক্তিশালী স্তম্ভ।