গ্যাসের জন্য হাহাকার! রাত ২টো থেকে দেড় কিলোমিটার লাইন, কলকাতার অটো চালকদের চোখে জল

কলকাতার রাজপথে এখন ত্রাহি ত্রাহি রব। পাম্পে পাম্পে গ্যাসের আকাল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মধ্যবিত্তের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা অটো পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হওয়ার মুখে। ভোররাত থেকে পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন, চালকদের চোখে ঘুম নেই, পেটে খিদে থাকলেও কপালে জুটছে না প্রয়োজনীয় জ্বালানি। সল্টলেক সিটি সেন্টার থেকে বেঙ্গল কেমিক্যাল—সর্বত্রই শুধু অটোর দেড় কিলোমিটার লম্বা সারি।

রাত জাগছেন চালকরা, মিলছে না গ্যাস:
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অনেক অটো চালক রাত ১টা বা ২টো থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। কেউ গাড়ির ভেতরেই ঘুমিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও শেষ মুহূর্তে শুনছেন ‘গ্যাস শেষ’। বেঙ্গল কেমিক্যালের সামনে সারিবদ্ধ অটোর লাইন দেখে শিউরে উঠছেন নিত্যযাত্রীরা। এক চালকের কথায়, “কাল সারাদিন লাইনে ছিলাম, পাম্পের কাছে আসতেই বলা হলো গ্যাস নেই। সংসার চলবে কী করে, বুঝতে পারছি না।”

দাম বাড়ল এক ধাক্কায় ৫ টাকা:
শুধু অমিল নয়, এলপিজি গ্যাসের দামও সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কালও যে গ্যাসের দাম ছিল লিটার প্রতি ৫৭ টাকা ৬৮ পয়সা, আজ তা এক ধাক্কায় ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৬৮ পয়সায়। এর ফলে লাভের গুড় পিঁপড়েয় খাওয়ার জোগাড় অটো চালকদের। অন্যদিকে, পেট্রোলের বদলে যারা সাশ্রয়ের আশায় সিএনজি গাড়ি কিনেছিলেন, তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। পেট্রোলে যেখানে ১১-১৩ কিমি মাইলেজ মেলে, সিএনজিতে পাওয়া যায় ১৮-২০ কিমি। কিন্তু সিএনজি-র আকাল সব হিসেব উল্টে দিচ্ছে।

পাম্প কর্মীদের অসহায়তা:
কাঁকুরগাছি থেকে সল্টলেক—পাম্প কর্মীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় জোগানের পরিমাণ অর্ধেকেরও কম। ৩ গাড়ি গ্যাসের বদলে দিনে আসছে মাত্র একটি বা দেড়টি গাড়ি। কাঁকুরগাছির একটি পাম্পে পেট্রোল-ডিজেল পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েও কেবল গ্যাসের লাইন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে এই ঘাটতি যদি দ্রুত না মেটে, তবে কলকাতার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।