কয়লা পাচারকাণ্ডে ধুন্ধুমার! পুলিশকর্তার বাড়িতে ED হানা, গেটে ঝুলল হাজিরা নোটিস!

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এবার সরাসরি অ্যাকশনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার সাতসকালে রাজ্য পুলিশের প্রভাবশালী আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের বাড়িতে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বাড়ি ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, আর ভেতরে চলছে ম্যারাথন তল্লাশি।

গেটে ঝুলল ‘ডেডলাইন’ নোটিস!

এদিন মনোরঞ্জনবাবুর বাড়িতে ঢুকেই ইডি আধিকারিকরা তাঁর দরজায় একটি হাজিরার নোটিস সেঁটে দেন। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তাঁকে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতেই হবে। উল্লেখ্য, এটি তাঁর নামে পাঠানো তৃতীয় সমন। এর আগে দু’বার ডাকলেও হাজিরা এড়িয়েছিলেন এই পুলিশ আধিকারিক।

তদন্তকারীদের র‍্যাডারে ‘প্রোটেকশন মানি’

ইডি সূত্রে দাবি, কয়লা পাচারের বিশাল নেটওয়ার্কে ‘প্রোটেকশন মানি’ বা তোলা আদায়ের ক্ষেত্রে এই পুলিশ আধিকারিকের বড় ভূমিকা থাকতে পারে। কয়লা মাফিয়াদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তল্লাশির সময় মনোরঞ্জন মণ্ডল নিজে বাড়িতে না থাকলেও, তাঁর পরিবারের সদস্যদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর তোপ ও সেই বিতর্কিত অতীত

মনোরঞ্জন মণ্ডলের ক্যারিয়ার ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই।

  • ২০২৪ সালে সাসপেনশন: দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

  • মমতার কড়া বার্তা: নবান্নের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কয়লা পাচারে তৃণমূলকে দোষ দেওয়া হলেও আসলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশই টাকার বিনিময়ে পাচারে মদত দিচ্ছে। সেই সময় বারাবনি থানার ওসি থাকাকালীন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল মনোরঞ্জনের বিরুদ্ধে।

  • সাম্প্রতিক বদলি: গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হলেও বিতর্কের জেরে তড়িঘড়ি সরিয়ে ‘স্পেশাল ব্রাঞ্চে’ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

ইডির দাবি, বারবার সমন এড়িয়ে তদন্তে অসহযোগিতা করছেন এই অফিসার। এবারও যদি তিনি ১৩ মার্চের ডেডলাইন মিস করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কড়া আইনি পদক্ষেপ, এমনকি গ্রেফতারির পথেও হাঁটতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থা।