‘ল্যাজ গুটিয়ে পালালেন জ্ঞানেশ কুমার!’ সুপ্রিম রায়ে জয়ের দাবি করে ৫ দিনের ধরণা তুললেন মমতা

 

ভোটার তালিকা থেকে একতরফা নাম বাতিলের প্রতিবাদে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে টানা পাঁচ দিন ধরণায় বসার পর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পর, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয়বারের জন্য নেত্রীকে ধরণা তোলার অনুরোধ জানান। জনসভার উপস্থিত সাধারণ মানুষের অনুমতি নিয়েই মমতা ধরণা সমাপ্তির ঘোষণা করেন।

অভিষেকের আক্রমণ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ: ধরণামঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে জ্ঞানেশ কুমার ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়েছেন।” তিনি দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে। বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে যেভাবে ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছিল, আদালত তাতে কড়া পদক্ষেপ করেছে। অভিষেক জানান, “সুপ্রিম কোর্ট বলেছে বাংলার কেসকে ‘স্পেশাল কেস’ হিসেবে দেখা হবে এবং নির্বাচনের একদিন আগেও নাম তোলা যাবে।”

বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও আইনি জয়: আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত আপিল শোনার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি ‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল’ গঠিত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের পিটিশন অনুযায়ীই নির্দেশগুলো হয়েছে। এখন নির্বাচন ঘোষণা হলেও ভাববেন না যে আপনাদের সুযোগ নেই। সুপ্রিম কোর্ট আছে।”

কুণাল ঘোষের তোপ: তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশনারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে হলে এখন থেকে কমিশনকে তার কারণ দর্শাতে হবে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদের নৈতিক জয়। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই লড়াই চলবে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সুস্থ থাকার আহ্বান জানান অভিষেক।