সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ‘ভিক্টরি’ চিহ্ন মমতার! ধর্ণা প্রত্যাহার করে ‘মানুষের জয়’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

দীর্ঘ ৫ দিনের লড়াইয়ে বড়সড় সাফল্যের ইঙ্গিত পেয়ে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ধর্ণা মঞ্চ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা ‘বিবেচনাধীন’ রাখার বিষয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পরেই বিষয়টিকে তৃণমূলের নৈতিক জয় বলে ঘোষণা করেন তিনি। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত হলো বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আদালতের ঐতিহাসিক নির্দেশ: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এই ট্রাইব্যুনালে অন্য রাজ্যের বিচারপতিরাও থাকতে পারবেন এবং এর যাবতীয় খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। কোনো ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ গেলে কমিশনকে তার কারণ দর্শাতে হবে। সবথেকে বড় স্বস্তি হলো, ভোটের ঠিক আগের দিনও যদি কারোর নাম চূড়ান্ত তালিকায় ওঠে, তবে তিনি পরের দিন ভোট দিতে পারবেন।
মমতার প্রতিক্রিয়া ও ধর্ণা প্রত্যাহার: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ধর্ণা দিয়েছিলাম যাতে মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পায়। ১৫-১৬ তারিখ ভোট ঘোষণা হলেও এখন আর চিন্তা নেই, কারণ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। খেলা এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির কথায় লক্ষ লক্ষ নাম ‘বিবেচনাধীন’ করে রাখা হয়েছিল এবং রোজ রোজ অ্যাপ বদলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ধর্ণা প্রত্যাহার করলেও তৃণমূল যে ময়দান ছাড়ছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। মানুষের আস্থা রক্ষায় এবং তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীদের ক্যাম্প করে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষকে মিসলিড করা হয়েছিল, আদালত আজ কমিশনকে ভর্ৎসনা করেছে। আমরা কড়া নজর রাখব।”