সারদা কেলেঙ্কারিতে দাউদাউ আগুন! ১০ বছর পর শ্যামল সেন কমিশনের গোপন রিপোর্ট ফাঁসের নির্দেশ হাইকোর্টের

সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে এক নতুন মোড় এল। দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা শেষে অবশেষে বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের যাবতীয় আর্থিক রিপোর্ট ও পর্যবেক্ষণ জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সারদা কাণ্ডে রাজ্য সরকার গঠিত এই কমিশনের হাতে থাকা সমস্ত নথি ও হিসেব-নিকেশ মামলার সব পক্ষকে দিতে হবে। এর ফলে সারদার কোটি কোটি টাকার পাহাড় কোথায় গেল এবং আমানতকারীদের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপোর্টের গুরুত্ব ও আইনজীবীদের বয়ান: ২০১৩ সালে সারদা প্রধান সুদীপ্ত সেন গ্রেফতার হওয়ার পর এই কমিশন গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। আমানতকারীদের টাকা ফেরানোই ছিল এর মূল লক্ষ্য। আমানতকারীদের আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী ও অরিন্দম দাস বলেন, “এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে কমিশনের যাবতীয় পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ সামনে আসবে। এর ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন গতি পাবে।”

সিবিআই ও ইডি-কে তীব্র ভর্ৎসনা: এদিন মামলার শুনানির সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) ও ইডি (ED)-র আইনজীবীদের অনুপস্থিতি দেখে চরম ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ। তিনি বলেন, “৯০ শতাংশ চিটফান্ড মামলায় এই দুই এজেন্সির আইনজীবীরা গরহাজির থাকছেন। অথচ যাবতীয় তদন্ত ও হিসেব তাঁদেরই হাতে।” আদালত স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এরপরও এমন চললে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইতিহাস ও অমীমাংসিত প্রশ্ন: ২০১৪ সালে প্রায় ৪০০ পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছিল এই কমিশন। সেই সময় ১.৩ লক্ষ চেক ইস্যু করা হলেও লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী কোনো সুরাহা পাননি। কমিশনের কাছে থাকা অবশিষ্ট ১৩৮ কোটি টাকা রাজ্যকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই আর্থিক হিসেব এবং সারদার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি নিয়ে কমিশনের আসল বক্তব্য কী ছিল, তা এতকাল গোপনেই ছিল। এবার সেই রিপোর্ট সামনে এলে রাজ্য রাজনীতির জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।