ভোটের আগেই তপ্ত উত্তরবঙ্গ: গত নির্বাচনে নিজের ওয়ার্ডে হারের খোঁচা গৌতমের, পালটা চ্যালেঞ্জ বিজেপির

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। শিলিগুড়ির রাজনীতির দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী— মেয়র গৌতম দেব এবং বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি। সোমবার রাতে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে বিজেপির ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’কে কেন্দ্র করে যে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল, মঙ্গলবার তা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নীতিগত প্রশ্নে পর্যবসিত হলো।
গৌতম দেবের কড়া আক্রমণ: জনসংযোগে বেরিয়ে মেয়র গৌতম দেব সরাসরি বিঁধলেন শঙ্কর ঘোষের রাজনৈতিক অতীতকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যিনি একসময় লাঠি হাতে অতিবাম আন্দোলন করতেন, বুকে চে গেভারার ট্যাটু নিয়ে ঘুরতেন, তিনি রাতারাতি কীভাবে লালপদ্ম হয়ে গেলেন?” এখানেই শেষ নয়, গত নির্বাচনে শঙ্কর ঘোষ নিজের ওয়ার্ডেই কেন পিছিয়ে ছিলেন, সেই পুরনো ক্ষত খুঁচিয়ে মেয়র বলেন, “পাঁচ বছর এমআইসি এবং বিধায়ক থাকার পরেও নিজের এলাকায় হারলেন কেন, আগে সেই জবাব দিন।”
শঙ্কর ঘোষের পালটা চাল: মেয়রের এই ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি সাফ জানান, “আমি গৌতম দেবের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নই। আমার নৈতিকতা বিচার করবে সাধারণ মানুষ।” মেয়রের আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে তিনি টেনে আনেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে। ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’ বলে দেগে দিয়ে শঙ্কর বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি ক্ষমা না চান, তবে আমি রাজপথে নামব।”
পরিবর্তন রথযাত্রা ও রাজনৈতিক উত্তাপ: মঙ্গলবার সেভক রোডের খাটু শ্যাম মন্দিরে পুজো দিয়ে বিজেপির এই রথযাত্রা শুরু হয়। শিখা চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মনদের উপস্থিতিতে এই মিছিল হিলকার্ট রোড, বিধান রোড হয়ে নকশালবাড়ি ও খড়িবাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। গোটা এলাকা জুড়ে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সব মিলিয়ে, দেওয়াল লিখন শুরুর আগেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক জমি এখন তেতে রয়েছে।