সাঁতরাগাছি থেকে আসানসোল— ভোল বদলে যাচ্ছে বাংলার রেলের! ৫৬৫২টি গ্রামের মানুষের ভাগ্য খুলল এক লপ্তে

নির্বাচনী দামামা বাজার আগেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড়সড় উপহার দিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (CCEA) পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের জন্য দুটি বিশাল মাল্টি-ট্র্যাকিং রেল প্রকল্পের সবুজ সংকেত দিয়েছে। মোট ৪,৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই খুশির খবর ভাগ করে নিয়েছেন।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও প্রভাব: মূলত পণ্য পরিবহণে গতি আনা এবং বর্তমান রেললাইনের ওপর অতিরিক্ত চাপের বোঝা কমানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। ‘পিএম গতি শক্তি’ মাস্টার প্ল্যানের অধীনে এই কাজ হবে। বিশেষ করে আসানসোল এবং সীতারামপুর সংলগ্ন রেল করিডোর, যা কয়লা, সিমেন্ট ও লোহা পরিবহণের জন্য পরিচিত, সেখানে আমূল পরিবর্তন আসবে।

নতুন লাইন ও ডাবলিং: প্রকল্পের আওতায় সাঁইথিয়া-পাকুর সেকশনে চতুর্থ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। একইভাবে সাঁতরাগাছি-খড়গপুর সেকশনেও চতুর্থ লাইনের কাজ হবে। এর ফলে ঝাড়খণ্ডের খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চল থেকে পশ্চিমবঙ্গে কাঁচামাল পরিবহণ অনেক দ্রুত হবে। রেলের ১৯২ কিলোমিটার নতুন পথ যুক্ত হওয়ার ফলে ৫,৬৫২টি গ্রামের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান: এই মেগা প্রকল্পের ফলে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। শুধু মালবাহী ট্রেন নয়, রেললাইনের ক্ষমতা বাড়লে ভবিষ্যতে শান্তিনিকেতন ও তারাপীঠের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতিবেগও বাড়বে। লজিস্টিক খরচ কমলে সরাসরি লাভবান হবেন শিল্পপতি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রেলপথে পণ্য পরিবহণ বাড়লে রাস্তায় ট্রাকের ভিড় ও দূষণ দুই-ই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।