কত টাকা রাখলে বাড়িতে হানা দেবে আয়কর বিভাগ? আয় নেই, তবুও নগদ জমানোর আগে জানুন মোক্ষম নিয়ম!

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি এবং টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা। শেয়ার বাজারে ধস আর ব্যাঙ্কে সুদের হার কমতে থাকায় অনেকেই এখন ঘরে নগদ টাকা জমিয়ে রাখাকেই নিরাপদ মনে করছেন। খোদ ধনকুবের ওয়ারেন বাফেটও বর্তমানে ৩৮২ বিলিয়ন ডলার নগদের ওপর বসে আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভারতে একজন সাধারণ নাগরিক বাড়িতে ঠিক কত টাকা নগদ রাখতে পারেন? আয়কর দপ্তরের নিয়ম ঠিক কী বলছে?

নগদ রাখার কোনো ঊর্ধ্বসীমা আছে কি? ভারতীয় আইন অনুযায়ী, বাড়িতে নগদ টাকা রাখার কোনো নির্দিষ্ট ‘ম্যাক্সিমাম লিমিট’ বা ঊর্ধ্বসীমা নেই। অর্থাৎ, আপনি চাইলে কয়েক লক্ষ বা কোটি টাকাও বাড়িতে রাখতে পারেন। কিন্তু এখানে একটি বড় ‘শর্ত’ প্রযোজ্য। আয়কর দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আপনার কাছে থাকা প্রতিটি টাকার উৎস (Source of Income) বৈধ হতে হবে।

কখন পড়তে পারেন আইনি জটিলতায়? আয়কর আইনের ধারা ৬৮ থেকে ৬৯বি পর্যন্ত স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তির কাছে এমন কোনো সম্পদ বা নগদ পাওয়া যায় যার উৎস তিনি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না, তবে তা ‘অঘোষিত আয়’ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে কর কর্তৃপক্ষ মোট আয়ের ওপর জরিমানা ও কর মিলিয়ে প্রায় ৭৮% পর্যন্ত দাবি করতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট সীমা লঙ্ঘন করলে ২০০% পর্যন্ত জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে।

সতর্কতা ও করণীয়: ১. আইটিআর (ITR): আপনার গচ্ছিত অর্থ যেন অবশ্যই আপনার ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে প্রতিফলিত হয়। ২. নথিপত্র: জমি বিক্রি বা ব্যবসার টাকা ঘরে রাখলে তার সপক্ষে উপযুক্ত আইনি নথি বা ক্যাশবুক মেইনটেন করা জরুরি। ৩. স্বচ্ছতা: তদন্তের সময় যদি টাকার উৎস এবং আপনার উপার্জনের রেকর্ডে গরমিল পাওয়া যায়, তবেই তা বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, সৎ পথে উপার্জিত এবং ট্যাক্স দেওয়া টাকা ঘরে রাখতে কোনো বাধা নেই। তবে হিসাব বহির্ভূত টাকা থাকলেই বিপদ।