‘এক নম্বরের দুশ্চরিত্র মেয়ে!’ প্রেমিকের নোংরা অপবাদে শেষ হয়ে গেল হাসিখুশি ডাক্তারি পড়ুয়া

এক প্রতিশ্রুতিমান চিকিৎসকের জীবন প্রদীপ অকালেই নিভে গেল সম্পর্কের ‘টক্সিসিটি’ বা বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায়। মুম্বইয়ের ডেন্টাল বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী স্তুতি সোনওয়ানের নিথর দেহ উদ্ধার হল তাঁর নিজের ঘর থেকে। মৃত্যুর আগে ৬ পাতার এক দীর্ঘ সুইসাইড নোটে স্তুতি লিখে গেছেন তাঁর যন্ত্রণার কথা, যেখানে মূল অভিযুক্ত তাঁরই প্রেমিক। পেশায় চিকিৎসক হতে যাওয়া এক ছাত্রীর এই পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমেছে চিকিৎসা মহলে।
চরিত্র নিয়ে কটুক্তি ও সন্দেহ: স্তুতির পরিবারের অভিযোগ এবং সুইসাইড নোট অনুযায়ী, তাঁর প্রেমিক দীর্ঘিন ধরে স্তুতির চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতেন। কথায় কথায় তাঁকে ‘দুশ্চরিত্র’ বলে অপমান করা হতো। স্তুতি নোটে লিখেছেন, তিনি প্রতারণা করছেন— এমন এক ভিত্তিহীন সন্দেহের বশেই তাঁর ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন প্রেমিক। দিনের পর দিন এই লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরেই চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হন ওই তরুণী।
বন্ধুদের ‘মজা’ যখন নির্মম পরিহাস: সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে স্তুতির লেখা ডায়েরি থেকে। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গেও এই টক্সিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতো। স্তুতি লিখেছেন, বন্ধুরা মজা করে তাঁকে বলতেন, ‘দেখিস, একদিন তোকে ফ্রিজ থেকে উদ্ধার করা হবে।’ দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর হত্যাকাণ্ডের ছায়া স্তুতির জীবনেও দেখা দেবে কি না, তা নিয়ে বন্ধুদের সেই উপহাসই যেন শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়ে দাঁড়াল, যদিও মৃত্যুটি আত্মহত্যার পথেই এল।
পরিবারের আহাজারি ও আইনি পদক্ষেপ: সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত স্তুতির ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে স্তুতির পরিবার। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই প্রেমিককে আটক করে জেরা শুরু করেছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন কীভাবে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিতে পারে, স্তুতির মৃত্যু ফের তা প্রমাণ করল।