আর নেই গ্যাসের চিন্তা! রান্নার গ্যাস নিয়ে বড় ঘোষণা মোদী সরকারের, এক ধাক্কায় ১০% বাড়ল উৎপাদন!

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া অশান্তির মেঘে কি টান পড়বে বাঙালির হেঁশেলে? গত কয়েকদিন ধরে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের আকাল নিয়ে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, মঙ্গলবার তা কার্যত উড়িয়ে দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশে গ্যাসের কোনও সংকট নেই। উল্টে চাহিদা মেটাতে শোধনাগারগুলিতে উৎপাদন এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই আতঙ্ক? ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাব দেখা দিচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তড়িঘড়ি আসরে নামে কেন্দ্র। তেল শোধনাগারগুলিকে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যার ফলে গত কয়েকদিনে এলপিজি উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
দাম ও বুকিংয়ের নতুন নিয়ম: যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পকেটে। গত শনিবারই গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে বিধিনিষেধ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিলিন্ডার বুক করার অন্তত ২৫ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করা যাবে। সরকারের দাবি, মজুতদারি রুখতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে জোগান পৌঁছে দিতেই এই সাময়িক কড়াকড়ি।
গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন: কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের মতে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অন্য অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি মজবুত। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প দেশগুলোর সঙ্গেও নিরন্তর যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘গ্যাস সংকটের’ খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র। সরকারের অভয়বাণী— উৎপাদন বাড়ছে, জোগান স্বাভাবিক রয়েছে, তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করার কোনও প্রয়োজন নেই।