ই এম বাইপাসে বড়সড় নাশকতার ছক? রুবির মোড়ে পুলিশের জালে ৬ সন্দেহভাজন!

তিলোত্তমার বুকে বড়সড় অপরাধমূলক ষড়যরন্ত্র কি রুখে দিল লালবাজার? সোমবার রাতে ই এম বাইপাস সংলগ্ন রুবির মোড়ে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ছয়জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ‘ওয়াচ সেকশন’। ধৃতদের পরিচয় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে রীতিমতো ধন্দে তদন্তকারীরা। তবে এই গ্রেফতারির পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সন্দেহ দানা বাঁধল কীভাবে? লালবাজার সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরেই বাইপাসের ধারের এই অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল পুলিশের। স্থানীয় সূত্র ও গোয়েন্দাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খবর আসে যে, রুবির মোড় এলাকায় কোনো বড়সড় অপরাধ সংগঠনের প্রস্তুতি চলছে। সেই ইনপুটের ভিত্তিতেই সোমবার বিকেল থেকে ছদ্মবেশে নজরদারি শুরু করেন ওয়াচ সেকশনের গোয়েন্দারা। আচমকা অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করতেই ছয়জনকে পাকড়াও করে আটক করা হয় এবং দীর্ঘ জেরার পর তাদের গ্রেফতার করে লালবাজার।
সাউথ ইস্টার্ন কানেকশন ও অপরাধের ছক: তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনো বড় ধরণের ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কাজ হাসিল করতেই এই ছয়জন সেখানে জড়ো হয়েছিল। ধৃতদের কাছে কোনো মারণাস্ত্র ছিল কি না বা তারা আন্তঃরাজ্য কোনো অপরাধী চক্রের সদস্য কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, “তদন্ত চলছে এবং ধৃতদের কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদের পুরনো অপরাধমূলক রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
শহরজুড়ে হাই-অ্যালার্ট: এই ঘটনার পর বাইপাস, সায়েন্স সিটি থেকে গড়িয়া পর্যন্ত পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। শহরের ব্যস্ততম মোড় এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লালবাজারের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ এখন আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা (Pre-emptive action) নিচ্ছে। নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলেই যেন তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ থানাকে জানানো হয়। ধৃতদের মঙ্গলবার আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।