একুশের ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা’ নিয়ে ভয়ঙ্কর চটেছে কমিশন! সরাসরি ওসি-দের বরখাস্তের হুঁশিয়ারি জ্ঞানেশ কুমারের!

আসন্ন নির্বাচনের আগে ফের একবার উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতির আঙিনা। তবে এবার কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সরাসরি রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ওপর খাঁড়া ঝোলালো ভারতের নির্বাচন কমিশন। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখে এবার অভূতপূর্ব কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডের সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সামান্যতম অশান্তি হলেও রেয়াত করা হবে না কাউকেই।
পুরনো ফাইল খোলার নির্দেশ: এদিনের বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট জানতে চেয়েছে, একুশের নির্বাচনের পর ঠিক কোন কোন এলাকায় অশান্তি হয়েছিল? সেই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি (OC) এবং সুপারভাইজিং অফিসার কারা ছিলেন? কমিশন সূত্রের খবর, ওই পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনও বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তলব করেছে ফুল বেঞ্চ। অর্থাৎ, পুরনো রেকর্ড দেখেই এবার ভোটের ডিউটি বণ্টন করা হবে।
সরাসরি বরখাস্তের হুঁশিয়ারি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এদিন রীতিমতো বেনজির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এবার যদি কোনও থানার অধীনে অশান্তি বা হিংসার খবর আসে, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে কেবল বদলি নয়, সরাসরি সংবিধানের ৩১১ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে বরখাস্ত করা হতে পারে। ডিজি ও মুখ্যসচিবকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট বলেন, “প্রয়োজনে আমরা ওসি-দের সরাসরি সরিয়ে দেব। আপনারা নিশ্চিত করুন যে এবার এক বিন্দুও রক্তপাত হবে না।”
দায় নিতে হবে শীর্ষ কর্তাদেরও: কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ২০২১-এর পরিস্থিতি তারা ভোলেনি। এবার যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে তার দায়ভার কেবল নিচুতলার কর্মীদের নয়, বরং ডিজি ও মুখ্যসচিবকেও নিতে হবে। এই কড়া বার্তার পর রাজ্য প্রশাসনে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এখন দেখার, কমিশনের এই ‘দাদাগিরি’র জবাবে নবান্ন পাল্টা কী কৌশল নেয়।