‘দরকারে ধর্মগুরুদের শরণাপন্ন হোন!’ ভোটের আগে মহম্মদ সেলিমের গলায় হো-চি-মিনের সুর?

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এক নজিরবিহীন বার্তা দিলেন। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি রুখতে এবার প্রয়োজনে ধর্মগুরুদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বামপন্থীরা যেখানে সাধারণত ধর্ম এবং রাজনীতিকে আলাদা রাখতেই বিশ্বাসী, সেখানে সেলিমের এই ‘কৌশলী’ বার্তা কি ভোটের অঙ্কে কোনো বড় বদল আনতে চলেছে?
মঙ্গলবার বহরমপুরে এক কর্মী সভায় সেলিম ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান, সেই সময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামকে এক করতে হো-চি-মিন বৌদ্ধমঠে গিয়েছিলেন এবং ধর্মগুরুদের সাহায্য চেয়েছিলেন। সেলিমের মতে, বর্তমানে বিজেপি ও তৃণমূল যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও ফ্যাসিবাদ তৈরি করছে, তাকে পরাস্ত করতে হলে সমাজের সব স্তরে পৌঁছাতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই ধর্মগুরুদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
তবে সেলিমের এই বার্তার পিছনে গভীর রাজনৈতিক চাল দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের ভবিষ্যৎ এবং সম্প্রতি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নিয়ে দলের অন্দরেই কম বিতর্ক হয়নি। সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, তৃণমূল-বিজেপিকে ধর্মের রাজনীতির জন্য আক্রমণ করা সিপিএম কি তবে নিজেও ভোটের জন্য ধর্মগুরুদের দ্বারস্থ হতে চাইছে?
ডোমকল এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রানা অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, হো-চি-মিন যেভাবে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে এক করেছিলেন, সেলিমও তেমনই তৃণমূল-বিজেপির তৈরি ধর্মীয় উন্মাদনা ভাঙতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সাহায্য নিতে চাইছেন। ভোট যত এগোবে, সেলিমের এই ‘ভিয়েতনাম মডেল’ মুর্শিদাবাদ তথা বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।