বিক্ষোভ আর বিতর্কের মাঝেই ভোট-বার্তা! বাংলায় ১০০% বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী: ঘোষণা জ্ঞানেশ কুমারের

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের তিন দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষ হলো এক নজিরবিহীন উত্তেজনার মধ্য দিয়ে। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণেশ্বরে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান তোলা হয়। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির রেশ টেনেই দুপুরে কলকাতার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কড়া ও স্বচ্ছ রূপরেখা ঘোষণা করল কমিশন।

নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়:
মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলার প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ১০০ শতাংশ বুথেই আধাসেনা মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি, ৮০ হাজারেরও বেশি পোলিং স্টেশনে থাকবে ওয়েব কাস্টিংয়ের (Webcasting) ব্যবস্থা, যা সরাসরি দিল্লি ও রাজ্যের কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি করা হবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুনত্ব:

রঙিন ছবি: এবার ইভিএমে (EVM) সব প্রার্থীর সাদা-কালোর বদলে রঙিন ছবি থাকবে, যাতে ভোটারদের চিনতে সুবিধা হয়।

মহিলা পরিচালিত বুথ: রাজ্যে ১০ হাজার পোলিং স্টেশন সম্পূর্ণভাবে মহিলারা পরিচালনা করবেন। এছাড়াও ৬৩৪টি মডেল পোলিং স্টেশন তৈরি করা হবে।

ইসিআই নেট অ্যাপ: ভোটাররা এই অ্যাপের মাধ্যমেই তাঁদের বুথ এবং প্রার্থী সংক্রান্ত সব তথ্য জানতে পারবেন।

রাজনৈতিক সংঘাত ও সৌজন্যের মেলবন্ধন:
সফরের শেষ দিনে জ্ঞানেশ কুমার বেলুড় মঠে গিয়ে স্বামী গৌতমানন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যদিও সোমবার তৃণমূল প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কমিশনের বিরুদ্ধে ‘দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলেছেন এবং ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন যে তাঁদের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক বাদানুবাদের মাঝেই বাংলার মাটিকে ‘জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের পুণ্যভূমি’ হিসেবে বর্ণনা করে সৌজন্য দেখান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।