চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস! পার্কিনসন্স ও হৃদরোগ সারাতে বিশ্বে প্রথম স্টেম-সেল থেরাপির অনুমোদন

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান স্নায়বিক রোগের দাপটের মাঝে এক অভাবনীয় আশার আলো দেখাল সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। পার্কিনসন্স (Parkinson’s)—যা এতদিন অনিরাময়যোগ্য হিসেবে পরিচিত ছিল, তার চিকিৎসায় বিশ্বের প্রথম স্টেম-সেল থেরাপির অনুমোদন দিল জাপান সরকার। এটি কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং ‘রিজেনারেটিভ মেডিসিন’ বা পুনর্জন্মমূলক চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক বিশাল বিপ্লব।
পার্কিনসন্স চিকিৎসায় ‘এমচেপ্রে’ (Emchepre)
জাপানি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ‘সুমিতোমো ফার্মা’ তৈরি করেছে এমচেপ্রে নামক একটি স্টেম-সেল ভিত্তিক পণ্য। পার্কিনসন্স রোগে মস্তিষ্কের ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষগুলো মারা যায়, যার ফলে কাঁপুনি ও চলাফেরায় জড়তা দেখা দেয়। এই নতুন থেরাপিতে ল্যাবরেটরিতে তৈরি স্টেম সেল সরাসরি রোগীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করা হবে। এই কোষগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া নিউরন মেরামত করে পুনরায় ডোপামিন উৎপাদন শুরু করবে। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০-৬৯ বছর বয়সি রোগীদের ওপর এই থেরাপি প্রয়োগ করে লক্ষণগুলোতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি মিলেছে।
হৃদরোগীদের জন্য ‘রিহার্ট’ (Reheart)
পার্কিনসন্সের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা বা হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের জন্যও জাপান সরকার রিহার্ট নামক একটি থেরাপির অনুমোদন দিয়েছে। এটি স্টেম কোষ থেকে প্রাপ্ত হৃদযন্ত্রের পেশী কোষ ব্যবহার করে নতুন রক্তনালী তৈরি করতে এবং হার্টের কার্যকারিতা ফেরাতে সাহায্য করে।
আইপিএস (iPS) কোষের ম্যাজিক ও নোবেল সংযোগ
এই পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাটি দাঁড়িয়ে আছে ‘প্ররোচিত প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল’ বা আইপিএস (iPS) কোষের ওপর। জাপানি বিজ্ঞানী শিনিয়া ইয়ামানাকা এটি আবিষ্কার করে ২০১২ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক কোষকে ল্যাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভ্রূণের মতো স্টেম কোষে রূপান্তর করা হয়, যা শরীরের যে কোনও অঙ্গের কোষ তৈরি করতে সক্ষম।
ভারতের জন্য এর তাৎপর্য
ভারতের মতো দেশে যেখানে হৃদরোগ মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং স্নায়বিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে, সেখানে এই আবিষ্কার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হায়দ্রাবাদের কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ জগদেশ মাদিরেদ্দির মতে, হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিকল্প হিসেবে এই পদ্ধতি আগামী দিনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। যদিও এই থেরাপি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে এবং আরও বড় পরিসরে পরীক্ষার প্রয়োজন, তবুও এটি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে জাপানের নেতৃত্বকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করল।