‘এটা লন্ডন নয়, ভারত!’ ছোট পোশাক পরায় তরুণীকে প্রকাশ্য রাস্তায় নীতিপুলিশি প্রৌঢ়ার!

আন্তর্জাতিক নারী দিবসেই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন মধ্যপ্রদেশের এক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ইন্দোরের একটি পাবলিক পার্কে ভিডিও শুট করার সময় তাঁর পোশাক নিয়ে প্রকাশ্যেই আপত্তিকর মন্তব্য করেন এক অপরিচিতা মহিলা। ঘটনার ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়। নেটিজেনরা দ্বিধাবিভক্ত—একদল সরব হয়েছেন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে, অন্যদল প্রশ্ন তুলছেন সামাজিক শালীনতা নিয়ে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ইন্দোরের ওই ইনফ্লুয়েন্সার একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিও রেকর্ড করছিলেন। ঠিক সেই সময় জনৈকা এক প্রৌঢ়া তাঁর কাছে এসে কথা বলা শুরু করেন এবং তরুণীর ছোট পোশাক নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানান। ভাইরাল ভিডিওতে ওই মহিলাকে বলতে শোনা যায়, “এই ধরনের পোশাক আমাদের দেশে মানায় না। এটা ভারত, আমেরিকা বা লন্ডন নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, এমন পোশাক পরলে মহিলারা ‘খারাপ নজরে’র শিকার হতে পারেন এবং নিজের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব মহিলাদেরই।
শান্ত থেকে মন জয় করলেন তরুণী
অপরিচিত মহিলার এমন অযাচিত হস্তক্ষেপেও মেজাজ হারাননি ওই ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে প্রৌঢ়াকে উত্তর দেন এবং নিজের পরিচয় জানান। ওই মহিলা শেষে তরুণীকে ‘মেয়ের মতো’ সম্বোধন করে পোশাক বদলে আসার পরামর্শও দেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাপশনে লেখেন— ‘আন্টি ইয়ার’।
নেটপাড়ায় বিতর্কের ঝড়
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিশেষ ভিডিও বানাতে গিয়ে এমন ঘটনার সম্মুখীন হওয়া নিয়ে সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ওই মহিলার আচরণকে ‘নীতিপুলিশি’ বা অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে কার কী পোশাক পরা উচিত, তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারেন না। অন্যদিকে, তরুণীর ধৈর্য ও শান্ত আচরণের প্রশংসা করেছেন হাজার হাজার মানুষ। ঘটনাটি আবারও ভারতীয় সমাজে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম তথাকথিত ‘সামাজিক সংস্কারে’র দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।