রান্নার গ্যাসের নিয়মে মাঝরাতেই বড় বদল! ২৫ দিনের আগে মিলবে না সিলিন্ডার?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় পেট্রোল, ডিজেল এবং বিশেষ করে এলপিজি (LPG) সরবরাহ নিয়ে বড়সড় সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এখনও স্থিতিশীল থাকলেও, রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে সোমবার রাতেই কঠোর পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।
বুকিংয়ের নিয়মে ঐতিহাসিক রদবদল
নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার পর পরবর্তী সিলিন্ডার বুক করার জন্য গ্রাহকদের বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে এই সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১ দিন করা হয়েছিল, যা এবার আরও বাড়ানো হলো। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই সিলিন্ডার প্রতি রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে নতুন এই সময়সীমার কড়াকড়ি মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কেন এই আকস্মিক কড়াকড়ি?
সরকারি সূত্রের দাবি, যুদ্ধের আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস মজুত করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, যে গ্রাহকরা আগে দুই মাস অন্তর গ্যাস নিতেন, তাঁরাও এখন ১৫ দিন অন্তর বুকিং করছেন। এই কৃত্রিম আকাল এবং মজুতদারি রুখতেই সরকার বুকিংয়ের মাঝে ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করেছে।
সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রের রণকৌশল
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে এলপিজি-র কোনো বাস্তব সংকট নেই। তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘরোয়া উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আমদানির উৎস হিসেবে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু করেছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য একটাই—যুদ্ধে বিশ্ববাজার টালমাটাল হলেও ভারতীয় গৃহস্থের উনুন যেন জ্বলতে থাকে।