রান্নার গ্যাসের আকাল ও আকাশছোঁয়া দাম! আমজনতার হেঁশেলে এবার বড় বদল?

দেশের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে এবার বড়সড় সংকটের মেঘ। একদিকে রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে জোগানে টান—এই দুই সাঁড়াশি চাপে পড়ে এখন দিশেহারা মধ্যবিত্ত। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের (LPG) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডোমেস্টিক গ্রাহকদেরই প্রাধান্য দিতে হবে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত ‘বলি’ হতে হচ্ছে বাণিজ্যিক গ্যাস ব্যবহারকারীদের। বিশেষ করে হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান না পেয়ে প্রবল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের আমদানিতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ওপর।

পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থাকলেও, এখন নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে ২৫ দিনের আগে দ্বিতীয় গ্যাস বুকিং করা যাবে না। পাশাপাশি এক ধাক্কায় সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়েছে। আর এই অনিশ্চয়তা থেকেই কলকাতার বাজারে দেখা দিয়েছে এক নতুন ট্রেন্ড।

গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমাতে মানুষ এখন ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দিকে। কলকাতার চাঁদনী মার্কেট থেকে এজরা স্ট্রিট—সর্বত্রই এখন ইলেকট্রিক ইনডাকশন কুকারের ব্যাপক চাহিদা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, গত কয়েকদিনে ইনডাকশন কুকারের বিক্রি প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ‘খোসলা ইলেকট্রনিক্স’-এর পরিচালক মনীশ খোসলা জানিয়েছেন, “শনিবার থেকেই বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সাধারণত আমাদের ৮৬টি আউটলেটে দিনে ৪০-৪৫টি ইনডাকশন বিক্রি হয়, এখন তা ১২০-১৩০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে।”

শুধু ইনডাকশন নয়, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইলেকট্রিক কেটলি, হট প্লেট এবং মাইক্রোওয়েভ ওভেনের বিক্রিও। সল্টলেকের বাসিন্দা সুমেধা বাগলার মতে, “গ্যাসের দাম যেভাবে বাড়ছে এবং বুকিং নিয়ে যে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে, তাতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা ছাড়া উপায় নেই।” ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ইনডাকশনের উপযোগী বিশেষ বাসনের চাহিদাও এখন তুঙ্গে। সব মিলিয়ে, রান্নার গ্যাসের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আমজনতাকে এখন ইলেকট্রিক রান্নার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।