মাত্র ৬ দিনের গরমের ছুটি! ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার দেখে মাথায় হাত শিক্ষক ও অভিভাবকদের!

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) যে ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে, তা দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ অভিভাবকদের। পর্ষদের ঘোষিত ‘মডেল’ তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ৬ দিন। আগামী ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত এই ছুটি কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

পর্ষদ সূত্রে খবর, নিয়ম অনুযায়ী বছরে মোট ৬৫ দিনের বেশি ছুটি দেওয়ার এক্তিয়ার তাদের নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ কারণে সরকারি ছুটির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, সেই ভারসাম্য বজায় রাখতেই কোপ পড়েছে গ্রীষ্মাবকাশে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ‘অবাস্তব’ বলে দেগে দিয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। ‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের’ দাবি, গত কয়েক বছর ধরে মে মাসে দক্ষিণবঙ্গে যে হারে তাপপ্রবাহ ও লু পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তাতে মাত্র ৬ দিনের ছুটি পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা পুনরায় পূর্বের ৮৫ দিনের ছুটির সংস্থান ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।

তবে আশার আলো দেখাচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহল। বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, আবহাওয়া প্রতিকূল হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই হস্তক্ষেপ করে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে দেন। ২০২৫ সালেও ১১ দিনের ছুটি এক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছিল। অন্যদিকে, গরমের ছুটিতে কোপ পড়লেও পুজোর ছুটিতে কোনও কার্পণ্য করেনি পর্ষদ। ১৫ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২৫ দিন স্কুল বন্ধ থাকবে। এখন প্রশ্ন একটাই, মে মাসের দাবদাহে পর্ষদ কি তাদের এই ৬ দিনের তত্ত্বে অনড় থাকবে, নাকি পরিস্থিতির চাপে ছুটি বাড়াতে বাধ্য হবে?