“এই স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিলাম,” রাজকীয় সংবর্ধনায় চোখে জল সিরিজ সেরা সঞ্জু স্যামসনের!

দেশকে বিশ্বসেরা করে ঘরে ফিরলেন কেরালার ভূমিপুত্র। সোমবার তিরুবনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই ভারতীয় দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসনকে যে সংবর্ধনা দেওয়া হলো, তা এক কথায় রাজকীয়। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ে ব্যাটে-বলে নয়, শুধু ব্যাটে যে তাণ্ডব সঞ্জু চালিয়েছেন, তারই প্রতিদান দিলেন হাজার হাজার ভক্ত। বিমানবন্দরের বাইরে প্রিয় তারকার এক ঝলক পেতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

স্বপ্নপূরণের আবেগঘন মুহূর্ত বিশ্বকাপের ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ সঞ্জু কেরালায় পা রেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ভক্তদের এই ভালোবাসা দেখে তিনি বলেন, “এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। আমি এই স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিলাম। দেশের জন্য বিশ্বকাপ জেতা এবং তাতে অবদান রাখা—নিজেকে সত্যিই ধন্য মনে হচ্ছে।” কেরালার মন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি স্বয়ং তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান।

ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের রূপকথা একটা সময় ছিল যখন ভারতীয় দলে সঞ্জুর জায়গা হওয়া নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন উঠত। কিন্তু ভাগ্য এবং প্রতিভা—দুটিই এবার হাত ধরাধরি করে চলেছে। অভিষেক শর্মার অসুস্থতায় দলে সুযোগ পেয়েই ইতিহাস গড়েন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই মরণ-বাঁচন ৮৯ রান—সঞ্জু বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি স্পেশাল। টুর্নামেন্টে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ হাফ সেঞ্চুরি করে ভারতকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন তিনি।

নিজের সফর নিয়ে সঞ্জু আরও যোগ করেন, “জীবনের কষ্ট, ব্যর্থতা আর ধাক্কাই আমাকে আজ শক্তিশালী করেছে। এগুলোকে যদি ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা-ই আপনার সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়।” প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়া থেকে শুরু করে বিশ্বজয়ের নায়ক হয়ে ওঠা—সঞ্জু স্যামসনের এই প্রত্যাবর্তন ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।