বিজেপির চাল নাকি বাস্তবের হাহাকার? “আলু বেচে দড়ি কেনার পয়সাও নেই,” ফুঁসছে গ্রামীণ বাংলা

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজার অপেক্ষায়। ঠিক তার আগেই বাংলার আলু ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হুগলি জেলায় তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। মাঠভর্তি আলু, অথচ কৃষকদের পকেটে নেই কানাকড়িও। ন্যায্য মূল্যের দাবিতে পথে নেমেছেন চাষিরা। গলায় দড়ি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। প্রশ্ন উঠছে—আলুর এই হাহাকার কি শাসক দলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাবে?
খরচ ও লাভের গরমিল হুগলির কৃষকদের দাবি, চলতি বছর বিঘাপ্রতি আলু চাষে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকারও বেশি। বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮০ বস্তা (৫০ কেজি প্রতি বস্তা)। সরকার ৪৭৫ টাকা সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করলেও অভিযোগ, বস্তার আকাশছোঁয়া দাম (২০ টাকা) সেই সামান্য লাভও কেড়ে নিচ্ছে। তার ওপর ১ মার্চ থেকে সরকারি আলু কেনার কথা থাকলেও এক সপ্তাহ ধরে কোনো তোড়জোড় নেই। ফলে ফড়েরা সুযোগ বুঝে প্রতি বস্তা মাত্র ২০০-২২০ টাকায় আলু কিনছে।
চাষিদের ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি চাষি শেখ ইনতার হোসেনের কথায়, “চাষিদের কোনো মূল্য নেই। বিধানসভা ভোটে এর হিসাব বুঝে নেব।” অন্য এক কৃষক শেখ নুরুল ইসলাম সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “এই সরকার আমাদের দরকার নেই। ১৮০ টাকায় আলু কেউ কিনছে না। সরকার আমাদের গলায় দড়ি দেওয়ার পয়সা দিক।” গোঘাটের শান্তিপুর এলাকায় তো রীতিমতো জাতীয় পতাকা হাতে আলু ঢেলে পথ অবরোধ করেছেন কৃষকরা। তাঁদের দাবি, কুইন্টাল প্রতি অন্তত ১২০০ টাকা দিতে হবে সরকারকে।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি যদিও শাসক দল এই দাবি মানতে নারাজ। তৃণমূলের রাজ্য আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বপন সামন্তের দাবি, সরকার সর্বদা চাষিদের পাশেই আছে। তাঁর পাল্টা তোপ, “যারা এখন হুঁশিয়ারি দিচ্ছে বা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তারা আসলে বিজেপির লোক।” রাজনৈতিক তরজা চললেও কৃষকদের চোখের জল ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।