“মে মাসের পর আপনি থাকবেন তো?” পুলিশকর্তাদের ধমক দেওয়ায় কমিশনকে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতায় পা রেখেই মেজাজ হারিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে কার্যত ধমকের সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। বাদ যাননি এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলও। আর আধিকারিকদের এই ‘ধমক-পর্ব’ শেষ হতেই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে বিধ্বংসী মেজাজে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘স্পাইডারম্যান’ কটাক্ষ করে মমতা সাফ জানালেন, ভয় দেখিয়ে বাংলার অফিসারদের দমানো যাবে না।
জ্ঞানেশ কুমারের ‘হুঁশিয়ারি’ ও ধমক এদিন বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানান, জেলাশাসক বা পুলিশ কমিশনার—গাফিলতি দেখলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তাঁর কড়া বার্তা ছিল, “কেউ পালাতে পারবেন না। নির্বাচনের পর দোষী সাব্যস্ত হলে কড়া পদক্ষেপ অনিবার্য।” এমনকি নির্বাচন পরবর্তী হিংসা রুখতে তিনি ‘শেষ দেখে ছাড়বেন’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন। আবগারি থেকে নার্কোটিক্স—সব দফতরের কর্তাদেরই এদিন কমিশনের কোপে পড়তে হয়।
মমতার ‘স্পাইডারম্যান’ কটাক্ষ কমিশনের এই মেজাজকে ‘মূর্খের স্বর্গ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা আজ অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছে, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। মে মাসের পর দু-মাস একটু বিরক্ত করবে, অফিসাররা ঠিক ট্যাক্টফুলি হ্যান্ডেল করে নেবেন।” এরপরই আক্রমণাত্মক সুরে তিনি যোগ করেন, “মে মাসের পরও নাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে! উনি কি সুপার গড? যেন স্পাইডারম্যান! বাচ্চাদের খেলার স্পাইডারম্যান যেমন যা ইচ্ছে তাই করতে পারত, উনিও তাই ভাবছেন। আমি জানতে চাই, মে মাসের পর আপনি নিজে কোথায় থাকবেন?”
গণতন্ত্র নিয়ে আশঙ্কা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ভোট কাটার অভিযোগ তুলে মমতা এদিন বিহারের প্রসঙ্গও টানেন। তাঁর দাবি, “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে এত ভোট কেটেছেন, যা বিহারে হয়নি। ভারতের গণতন্ত্র বলতে এখন কিছু নেই, একটাই পার্টি আর একটাই গ্রহ বানানোর চেষ্টা চলছে।”