সোনার দামে স্বস্তি, রুপো একধাক্কায় ৩,৪০০ টাকা সস্তা; কেন রূপোলি ধাতু থেকে মুখ ফেরাচ্ছে বাজার?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর তেলের বাজারে আগুন—এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সোনা ও রুপোর দাম বাড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উলটো। আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অস্থিরতার মধ্যেই সোমবার রাজধানী দিল্লিতে রুপোর দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেল। অল ইন্ডিয়া সরাফা অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন ধরে টানা কমছে রুপোর দাম।

কতটা কমল দাম? সোমবার দিল্লির বাজারে প্রতি কেজি রুপোর দাম ৩,৪০০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২.৬৮ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ এক দিনেই দাম কমেছে প্রায় ১.৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে সামান্য ২০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৪,৩০০ টাকায়। রুপোর তুলনায় সোনার বাজার কার্যত স্থিতিশীল থাকলেও রূপোলি ধাতুর এই পতন বিশেষজ্ঞদের অবাক করেছে।

কেন এই পতন? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাম কমার পিছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে:

  • ডলারের শক্তি বৃদ্ধি: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার হ্রাসের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে পারে। ফলে ডলার সূচক ১০০-র কাছাকাছি পৌঁছে শক্তিশালী হয়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনা ও রুপোর মতো মূল্যবান ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হয়।

  • শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা হ্রাস: রুপো শুধু গয়না নয়, শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার জেরে শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা অনেকটাই কমেছে, যা দাম কমার অন্যতম বড় কারণ।

  • অপরিশোধিত তেলের প্রভাব: গত সপ্তাহে তেলের দাম প্রবল হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ধাতু ছেড়ে অন্যত্র মূলধন সরাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দুই বাজারেই রুপোর দাম নিম্নমুখী।