“ভোটের আগে এবার গরিবের টাকা লুঠের ছক!” রাজপথ থেকে কেন্দ্রকে মারাত্মক হুঁশিয়ারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বাংলার রাজনীতিতে ‘বোমা’ ফাটালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লির এক আমলা তাঁকে ফোন করে বিজেপির এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়েছেন। অভিষেকের দাবি, এবার শুধু ক্ষমতা দখল নয়, বাংলার সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমানো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষছে বিজেপি সরকার।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ভোটার কার্ডের নয়া ‘ফাঁদ’? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, বিজেপি এক সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে একজন আমলা ফোন করে বলেছেন এদের ষড়যন্ত্র আরও বৃহৎ। প্রথমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে। এরপর যখন মানুষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপডেট করতে যাবে, তখন কেওয়াইসি (KYC) বা ভোটার কার্ড চাওয়া হবে। নাম না থাকায় ভোটার কার্ড দেওয়া যাবে না, আর সেই সুযোগে মোদিবাবু সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে টাকা নিজেদের নামে করে নেবে।” গরিব মানুষের কষ্টার্জিত টাকা আত্মসাৎ করতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

কমিশনকে কড়া চ্যালেঞ্জ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক বলেন, “ ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। আপনি বলেছিলেন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা দেবেন না, আমরা আদায় করেছি।” ২০০১ সালের ভোটার তালিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের নাগরিকত্ব আগেই প্রতিষ্ঠিত, তাঁদের নাম কোন অধিকারে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে?

“এক দফায় ভোট করার সাহস দেখান” বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক কেন্দ্র ও কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, গতবার আট দফায় ভোট করে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এবারও দফার পর দফা ভোট করলেও লাভ হবে না। তাঁর হুঙ্কার, “এক দফায় ভোট করান। সকাল থেকে রাতের মধ্যে বাংলার মানুষ আপনাদের রাজনৈতিক মাজা, কোমর আর শিরদাঁড়া সব ভেঙে দেবে।”