জয়শঙ্কর-দোভাল-চৌহান মেগা বৈঠক! মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে কোন বড় সিদ্ধান্তের পথে ভারত?

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ এখন খোদ ভারতের দরজায় কড়া নাড়ছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, সোমবার সংসদ ভবনে এক জরুরি ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসলেন ভারতের কূটনীতি ও নিরাপত্তার তিন স্তম্ভ—বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভারতের স্বার্থ ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের মূল নির্যাস।
কেন এই বৈঠক? অশনি সংকেত কোথায়? মধ্যপ্রাচ্যের আগুন এখন কেবল ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইজরায়েলি হামলা ও ইরানের পালটা প্রত্যাঘাতে তেলের শোধনাগার এবং নৌপথগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ভারতের কাছে এটি উদ্বেগের কারণ কারণ:
-
ভারতীয়দের নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। ইতিমধ্যেই দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর এসেছে। তাঁদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনে উদ্ধার অভিযান (Evacuation) চালানো এখন দিল্লির অগ্রাধিকার।
-
বাণিজ্যিক সংকট: হুথি ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্য পথকে বিপন্ন করে তুলেছে।
-
জ্বালানি সংকট: তেলের পরিকাঠামোতে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের অর্থনীতিতে।
নেপথ্যে তিন মস্তিস্কের কৌশল বৈঠকে ভারতের ‘স্পাই মাস্টার’ অজিত দোভাল সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রক্সি গ্রুপগুলোর হামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন। সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর সতর্ক অবস্থান ও কৌশলগত প্রস্তুতির খতিয়ান দেন। অন্যদিকে, জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভারত কোনো পক্ষ নিচ্ছে না। তাঁর কথায়, “ডায়ালগ এবং ডিপ্লোম্যাসিই হল সামনে এগোনোর একমাত্র পথ।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন। এই বৈঠকের পর এটা স্পষ্ট যে, ভারত একদিকে যেমন শান্তির জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক ও নিরাপত্তা দিক থেকেও ‘প্ল্যান-বি’ তৈরি রাখছে।